কোচবিহার, ২৬ অক্টোবরঃ নামী সংস্থার সিগারেটের মোড়ক, অথচ ভিতরে রয়েছে নকল পণ্য! এমনই অভিযোগের ভিত্তিতে কোচবিহারের ভবানীগঞ্জ বাজারে অভিযান চালাল হায়দরাবাদ থেকে আসা একটি বিশেষ দল। আদালতের নির্দেশ মেনে শহরের দুটি দোকানে তল্লাশি চালিয়ে একাধিক প্যাকেট সিগারেট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার ভবানীগঞ্জ বাজারে চাঞ্চল্য ছড়ায়। খুচরো ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগও।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি নামী সিগারেট প্রস্তুতকারী সংস্থার তরফে নকল পণ্য বিক্রির অভিযোগ তুলে হায়দরাবাদের আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত। এরপর আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে হায়দরাবাদের লোকাল কমিশনারের প্রতিনিধি হিসেবে আইনজীবী বালু ও আইনজীবী খুশি পান্ডের নেতৃত্বে একটি দল কোচবিহারে আসে। ভবানীগঞ্জ বাজারের দুটি দোকানে অভিযান চালিয়ে সিগারেটের একাধিক প্যাকেট বাজেয়াপ্ত করা হয় বলে সূত্রের খবর।
অভিযানকারী দলের সদস্যদের বক্তব্য, আদালতের নির্দেশ মেনেই এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে। শুধু দুটি দোকান নয়, মোট তিনটি স্থানে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তাঁরা জানিয়েছেন। তবে বাজেয়াপ্ত সিগারেটের সঠিক সংখ্যা, আনুমানিক বাজারমূল্য এবং সেগুলি পরীক্ষার পরে নকল বলে নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
অভিযানের মুখে পড়া ব্যবসায়ীদের একাংশের বক্তব্য, পাইকারি বিক্রেতা বা হকারদের কাছ থেকে সিগারেট কিনে তাঁরা খুচরো বিক্রি করেন। দোকানদার নিতাই দাসও দাবি করেছেন, তিনি হকারদের কাছ থেকে সিগারেট কিনে বিক্রি করেন। সেগুলি নকল কি না, তা তাঁর জানা ছিল না বলেই দাবি তাঁর। ফলে সরবরাহের উৎস এবং পণ্যের সত্যতা যাচাইয়ের প্রশ্নও সামনে এসেছে।
সিগারেটের মতো বহুল বিক্রীত পণ্যের ক্ষেত্রে নকল সামগ্রী বাজারে ছড়িয়ে পড়লে এক দিকে যেমন সংস্থার ব্যবসায়িক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, অন্য দিকে ক্রেতারাও প্রতারিত হতে পারেন। তাই সরবরাহের শৃঙ্খল খতিয়ে দেখা এবং সন্দেহজনক পণ্যের উৎস চিহ্নিত করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।
তবে এই ঘটনায় কোনও দোকানদার জেনে শুনে নকল সিগারেট বিক্রি করেছেন কি না, তা এখনও প্রমাণিত নয়। অভিযানে বাজেয়াপ্ত পণ্যের পরীক্ষা ও পরবর্তী তদন্তেই বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার কথা।
ভবানীগঞ্জ বাজারের এই অভিযান তাই শুধু কয়েকটি দোকানে তল্লাশির ঘটনা নয়, পণ্যের আসল-নকল যাচাই এবং বাজারে নজরদারির প্রশ্নও সামনে আনল। এখন তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর ব্যবসায়ী মহলের।





