মাথাভাঙ্গা, ২৬ অক্টোবরঃ নদীর বুকে যন্ত্রের দাপট। ভোরের আলো ফোটার আগেই আর্থ মুভার নামিয়ে বালি তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ। সেই বালি ট্রলি বোঝাই করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অন্যত্র। মাথাভাঙ্গা ২ ব্লকের রুইডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের রাঙ্গামাটি এলাকায় মানসাই নদীর তীর ঘিরে এমনই অভিযোগকে কেন্দ্র করে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। অবৈধ বালি উত্তোলনের জেরে নদীভাঙনের আশঙ্কা তো রয়েছেই, তার সঙ্গে ভারী যান চলাচলে গ্রামের রাস্তার বেহাল দশা নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এক-দু’দিন নয়, প্রায় প্রতিদিনই নিয়মবহির্ভূত ভাবে মানসাই নদীর তীর থেকে বালি তোলা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, ভোররাত থেকেই নদীর পাড়ে আর্থ মুভার নামিয়ে শুরু হয় বালি তোলার কাজ। পরে সেই বালি ট্রলি করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। দিনের পর দিন এ ভাবে বালি তোলা চলতে থাকলেও তা বন্ধ করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ হচ্ছে না বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের একাংশের।
নদীর তীর থেকে লাগাতার বালি তোলার ফলে এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়েরা। তাঁদের মতে, নদীর তীরবর্তী অংশের মাটি আলগা হয়ে গেলে ভাঙনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে বর্ষার সময়ে নদীতে জল বাড়লে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। নদীভাঙন দেখা দিলে বসতবাড়ি, চাষের জমি এবং এলাকার পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
সমস্যা শুধু নদীর তীরেই আটকে নেই। বালি পরিবহণের কাজে ভারী ট্রাক্টর ও ট্রলির নিয়মিত যাতায়াতের ফলে গ্রামের রাস্তাগুলিও বেহাল হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের বক্তব্য, রাস্তার উপর দিয়ে ভারী যান চলাচলের কারণে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে দৈনন্দিন কাজে যাঁদের ওই রাস্তা ব্যবহার করতে হয়, তাঁদের ভোগান্তি বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে অবৈধ ভাবে বালি তোলার অভিযোগ জানিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ঘোকসাডাঙ্গা থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযানে একটি আর্থ মুভার আটক করা হয়েছে। পুলিশের এই পদক্ষেপে আপাতত কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে এলাকায়।
তবে একটি আর্থ মুভার আটক করেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। তাঁদের দাবি, মানসাই নদীর তীর থেকে নিয়মবহির্ভূত ভাবে বালি তোলা বন্ধ করতে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে গ্রামের রাস্তা রক্ষা এবং নদীভাঙনের আশঙ্কা মোকাবিলায় প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে বালি উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাঙ্গামাটির বাসিন্দারা।





