নয়াদিল্লি, ২১ অক্টোবরঃ আন্দোলনের উত্তাপের মাঝে সাময়িক বিরতি। দিওয়ালি পর্যন্ত সমস্ত ধরনের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত রাখার নির্দেশ দিলেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। যন্তর মন্তর-কাণ্ডে দলের দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা জেলবন্দি। তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ বৃদ্ধি ঘিরে যখন রাজনৈতিক ও আইনি টানাপড়েন চলছে, তখনই সমর্থকদের উদ্দেশে এই বার্তা দিলেন দীপকে। তাঁর আবেদন, আপাতত আন্দোলন থেকে বিরতি নিয়ে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান, উৎসবের দিনগুলি প্রিয়জনদের পাশে থেকেই উপভোগ করুন।
মঙ্গলবার ইনস্টাগ্রাম লাইভ ও ভিডিও বার্তায় সমর্থকদের উদ্দেশে কথা বলেন সিজেপি প্রধান। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে দলের কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি। সেই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই দিওয়ালি পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন দীপকে। তাঁর বার্তায় স্পষ্ট, প্রতিবাদ চলবে কি না, তার চেয়েও আপাতত কর্মী-সমর্থকদের মানসিক স্বস্তি ও পরিবারের পাশে থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এই আবেদন জানাতে গিয়ে আবেগও চেপে রাখতে পারেননি সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ঘটনায় গ্রেপ্তার সৌরভ ও আশুতোষের বিচারবিভাগীয় হেফাজত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ইনস্টাগ্রাম লাইভে দীপকে বলেন, আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ার জন্য অনেকে তাঁকে নিয়ে কটাক্ষ বা ট্রোল করতে পারেন। কিন্তু সৌরভ ও আশুতোষ তাঁর কাছে পরিবারের সদস্যদের মতো। তাঁদের প্রতি ভালোবাসা ও যত্ন থেকেই এই মানসিক টান অনুভব করছেন তিনি।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর প্রতিবাদে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল সিজেপি-সহ একাধিক বিরোধী শক্তি। গত ১৩ অক্টোবর যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলাকালীন গ্রেপ্তার হন সৌরভ ও আশুতোষ। পরে তাঁদের তিহার জেলে পাঠানো হয়। তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ বৃদ্ধি পাওয়ায় দলের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতেও সমর্থকদের মনোবল ধরে রাখার আবেদন জানিয়েছেন দীপকে। তাঁর দাবি, সৌরভ ও আশুতোষ মহাত্মা গান্ধীর অহিংসার পথেই এগোচ্ছেন। তিনি বলেন, “সৌরভ ও আশুতোষের এই ত্যাগ বৃথা যাবে না।” তাঁর আরও বক্তব্য, “প্রকৃত শক্তি থাকে ত্যাগে।” দুই সহকর্মী হাসিমুখে জেল থেকে বেরিয়ে এলে গোটা দেশ তাঁদের সম্মান জানাবে বলেও আশাপ্রকাশ করেছেন তিনি।
আপাতত দিওয়ালি পর্যন্ত আন্দোলনে বিরতি। কিন্তু সৌরভ-আশুতোষের মুক্তির প্রশ্নে সিজেপির পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে কৌতূহল থেকেই যাচ্ছে। উৎসবের বিরতি শেষ হলে আন্দোলনের রণকৌশল কোন পথে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।





