কলকাতা, ২১ অক্টোবরঃ উৎসবের রাতে শহরের রাস্তায় জনজোয়ার। মহানবমীর ভিড় সামলে বিজয়ার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত প্রশাসন। তারই মধ্যে আচমকা স্বাস্থ্যভবনের কন্ট্রোল রুমে হাজির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জায়ান্ট স্ক্রিনে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন তিনি। আর সেখানেই চোরবাগানে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় আহতদের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জানালেন, মৃতের সংখ্যা যাতে আর না বাড়ে, সেই লক্ষ্যেই দ্রুত ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামোয় খামতির কথাও কার্যত স্বীকার করে নিলেন তিনি। সেই খামতি কাটিয়ে উঠতে আরও দু’বছর সময় লাগবে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।
নবমীর রাতে স্বাস্থ্যভবনের কন্ট্রোল রুমে মুখ্যমন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শন ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই নজর ছিল স্বাস্থ্য প্রশাসনের দিকে। সঙ্গে ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। উৎসবের ভিড়ে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে হাসপাতালগুলি কতটা প্রস্তুত, তা খতিয়ে দেখতেই এই পরিদর্শন বলে জানা গিয়েছে। সেখানেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। চোরবাগানের ঘটনায় আহতদের বেসরকারি হাসপাতালে রেফার করা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে তাঁর দাবি, দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতেই ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “মৃতের সংখ্যা যাতে আর না বাড়ে, সেই জন্যই ঘটনাস্থলেই আমরা আহতদের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তারপর আর মৃতের সংখ্যা বাড়েনি।” তাঁর আরও দাবি, বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর পরে আর কোনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। যদিও চিকিৎসা চলাকালীন কয়েক জনের মৃত্যু হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে শুধু চোরবাগানের ঘটনা নয়, সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা ও পরিকাঠামো নিয়েও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সরকারি হাসপাতালের কিছু খামতি রয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালের মতো পরিকাঠামো গড়ে তুলতে সময় লাগবে। সেই কাজ সম্পূর্ণ করতে অন্তত দু’বছর প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “কিছু খামতি আছে। বেসরকারি হাসপাতালের মতো পরিকাঠামো উন্নতিতে দু’বছর সময় লাগবে। সবে তো ছ’মাস হল।”
এদিকে, চোরবাগানের ঘটনায় আহতদের রেফার করা নিয়ে যাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন, সেই চিকিৎসক ও জুনিয়র চিকিৎসকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা ঘটনার সময় আদৌ ডিউটিতে ছিলেন কি না, তা যাচাই করার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। ডিউটিতে থেকে দায়িত্ব ছেড়ে অন্য কাজে যুক্ত হওয়া নিয়মবিরুদ্ধ এবং মানবিকতার দিক থেকেও অনুচিত বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
চোরবাগানের দুর্ঘটনার পর আহতদের চিকিৎসা, হাসপাতালের প্রস্তুতি এবং সরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর সক্ষমতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, নবমীর রাতে স্বাস্থ্যভবনের কন্ট্রোল রুম থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে সেই বিতর্কই ফের সামনে এল।





