বেঙ্গালুরু, ১৭ অক্টোবরঃ সরকারি চাকরি মানেই দীর্ঘ কর্মজীবন, অবসরের আগে পর্যন্ত নিশ্চিত বেতন ও আর্থিক নিরাপত্তা। কিন্তু সেই পরিচিত ব্যবস্থাতেই বদল আনার প্রস্তাব দিলেন কেন্দ্রীয় ভারী শিল্প ও ইস্পাতমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী। বেকারত্বের সমস্যা মোকাবিলায় সরকারি চাকরির মেয়াদ ১০ থেকে ১৫ বছরে বেঁধে দেওয়ার ভাবনা প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর যুক্তি, একজন কর্মী তিন-চার দশক একই পদে কাজ করার বদলে নির্দিষ্ট সময়ের পর অবসর নিলে নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুযোগ তৈরি হবে। তবে এটি এখনও প্রস্তাব, কার্যকর সরকারি সিদ্ধান্ত নয়।
শুক্রবার বেঙ্গালুরুতে সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় এই পরিকল্পনার কথা বলেন জনতা দল (সেকুলার)-এর নেতা কুমারস্বামী। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে একজন সরকারি কর্মী প্রায় ৩০-৩৫ বছর চাকরি করেন। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে একটি পদে একই ব্যক্তি কাজ করার সুযোগ পান। অন্যদিকে, অসংখ্য যোগ্য যুবক-যুবতী চাকরির অপেক্ষায় থাকেন। এই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে পারলে আরও বেশি পরিবার সরকারি চাকরির সুযোগ পেতে পারে।
কুমারস্বামীর প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট মেয়াদে চাকরি করার পর কর্মীদের অবসরের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। অবসরের পরে তাঁদের মাসে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পেনশন দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, এতে একটি পরিবারের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি অন্য পরিবারের কাছেও চাকরির দরজা খুলবে।
তবে এই প্রস্তাব ঘিরে একাধিক প্রশ্নও রয়েছে। ১০-১৫ বছর চাকরির পরে কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে? অভিজ্ঞ কর্মীদের দ্রুত অবসর দিলে প্রশাসনিক কাজে তার প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়েও আলোচনা প্রয়োজন। পাশাপাশি, সরকারি চাকরির শূন্যপদ পূরণে নিয়মিত নিয়োগ এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
কুমারস্বামী স্পষ্ট করেছেন, এই ভাবনা নিয়ে জনসমক্ষে আলোচনা চান তিনি। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলেও জানিয়েছেন। তাঁর এই প্রস্তাব কর্নাটকের আগামী ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক আলোচনাতেও জায়গা করে নিতে পারে।
সরকারি চাকরির মেয়াদ কমিয়ে নিয়োগের সুযোগ বাড়ানো বেকারত্ব মোকাবিলায় এই বিকল্প কতটা কার্যকর হবে, তার উত্তর অবশ্য এখনও অধরা। আপাতত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর প্রস্তাব ঘিরে কর্মসংস্থান, চাকরির নিরাপত্তা ও পেনশন ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।





