কলকাতা, ১৭ অক্টোবরঃ পুজোর আবহে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্বস্তি পেলেন আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় শুক্রবার তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছে শীর্ষ আদালত। দীর্ঘদিন ধরে জেলবন্দি সন্দীপের জামিনের পিছনে বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতাকেই অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে আদালত। ফলে পুজোর মধ্যেই তাঁর জেলমুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও জামিনের নির্দেশের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত মুক্তি নিশ্চিত নয়।
শুক্রবার বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের ডিভিশন বেঞ্চে সন্দীপের জামিনের আবেদন ওঠে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলবন্দি রয়েছেন আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ। অথচ এই মামলায় ১৪৭ জন সাক্ষীর মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র সাত জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পূর্ণ হয়েছে। বিচারপ্রক্রিয়ার এই ধীর গতির কথা বিবেচনা করেই জামিন মঞ্জুর করেছে শীর্ষ আদালত।
২০২৪ সালের অগস্টে আর জি কর হাসপাতালে এক তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পরেই হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। সেই সময় তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও সামনে আসে। পরে হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতির মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করে সিবিআই। সেই থেকে দীর্ঘদিন ধরে জেলবন্দি ছিলেন তিনি।
এই মামলায় জামিনের আবেদন নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সন্দীপ। সেখানে স্বস্তি না মেলায় শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ। শুক্রবার শীর্ষ আদালতের নির্দেশে সেই আবেদনেই সাড়া মিলল।
তবে আর্থিক দুর্নীতি মামলায় জামিন পাওয়া মানেই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি নয়। মামলার বিচারপ্রক্রিয়া এখনও বাকি। অন্যদিকে, আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওঠা একাধিক প্রশ্নের প্রেক্ষিতে সন্দীপের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। ফলে এই জামিনের নির্দেশ ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পুজোর মরসুমে শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশ সন্দীপ ঘোষের কাছে বড় আইনি স্বস্তি হলেও, আর্থিক দুর্নীতির মামলার পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়া কোন পথে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর।





