কলকাতা, ১২ অক্টোবরঃ শহরের বুকে পুকুরের জায়গায় বহুতল, জলাশয় ঘিরে দখলের অভিযোগ পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার এই বিতর্ক নতুন নয়। এ বার সেই বিষয়কেই রাজনৈতিক আক্রমণের হাতিয়ার করলেন শুভেন্দু। কুঁদঘাটে জলাশয় পুনরুদ্ধারের অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে পরিবেশ ধ্বংসের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। কেএমডিএ এলাকায় পাঁচ হাজার পুকুর বুজিয়ে দেওয়ার যে পরিসংখ্যান তিনি তুলে ধরেছেন, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের অবকাশ রয়েছে। এই অভিযোগের স্বাধীন যাচাই বা তার প্রেক্ষিতে তৃণমূলের বক্তব্য অবশ্য সামনে আসেনি।
সোমবার কলকাতা পুরসভা ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে কুঁদঘাটের দুটি জলাশয় পুনরুদ্ধার কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, টালিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী এবং যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। বরো ১১-এর ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইটখোলা এলাকার ওই দুটি জলাশয়ের নাম রাখা হয় ‘শিব সরোবর’ এবং ‘শক্তি সরোবর’।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, জলাশয় দু’টির চারপাশে তৈরি হবে সবুজ বেষ্টনী ও পার্ক। বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি প্রাতর্ভ্রমণ ও সান্ধ্যভ্রমণের জন্য থাকবে হাঁটার রাস্তা। জলাশয়ে মাছচাষের পরিকল্পনাও রয়েছে। অর্থাৎ, শুধু পুকুর উদ্ধার নয়, এলাকার বাসিন্দাদের জন্য অবসরযাপন ও পরিবেশবান্ধব পরিসর গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দিল রাজ্য সরকার।
তবে কুঁদঘাটের এই কর্মসূচির সঙ্গে জুড়ে রয়েছে পুরভোটের রাজনীতিও। শুভেন্দুর বক্তব্য, পুরভোটে গণদেবতার আশীর্বাদ পেলে রাজ্য সরকার ও পুরসভা যৌথ ভাবে মানুষকে নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা দেবে। ফলে জলাশয় পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ এক দিকে পরিবেশ রক্ষার বার্তা, অন্য দিকে নাগরিক পরিষেবা নিয়ে সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসাবেও সামনে এল।
একই দিনে আগামী এক বছরে রাজ্যে এক লক্ষ নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রার কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ২০২৭ সালের ৮ মে-র মধ্যে এই নিয়োগ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। ফলে পরিবেশ পুনরুদ্ধার থেকে কর্মসংস্থান দুটি ক্ষেত্রেই দ্রুত কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নতুন সরকার নিজের অগ্রাধিকারের ছবি তুলে ধরতে চাইছে। এখন দেখার, কুঁদঘাটের দুই সরোবরের পুনরুদ্ধার কতটা স্থায়ী হয় এবং ঘোষিত পরিকল্পনাগুলি বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয়।





