নয়াদিল্লী, ১২ অক্টোবরঃ ভোট চুরির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন যত তীব্র হচ্ছে, ততই সুর চড়াচ্ছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এ বার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করে তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দফতরের অন্তত ২০০ জন আধিকারিক নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন তাঁর সঙ্গে। ইডি, সিবিআই থেকে বিদেশমন্ত্রক বিভিন্ন জায়গা থেকেই সরকারের অন্দরের খবর পাচ্ছেন বলে দাবি কংগ্রেস নেতার। সোমবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল বলেন, “মোদিজি, আপনি শুনলে চমকে যাবেন। আপনার সরকারের অন্তত ২০০ জন আধিকারিক আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ইডি, সিবিআই, বিদেশমন্ত্রক সব জায়গা থেকেই আমরা খবর পাচ্ছি। আপনার যা খুশি করুন, কিন্তু সত্য আমাদের সঙ্গে রয়েছে।” তবে কোন আধিকারিকেরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, কী ধরনের তথ্য তাঁরা দিচ্ছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি বিরোধী দলনেতা। তাঁর এই দাবির সপক্ষে কোনও প্রমাণও সাংবাদিক বৈঠকে প্রকাশ্যে আনা হয়নি।
এ দিন পুলিশের একাংশের মনোভাব নিয়েও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন রাহুল। তাঁর দাবি, পুলিশের প্রায় ৫০ শতাংশ কর্মীই বিরোধীদের জানিয়েছেন, তাঁরা যে আন্দোলন করছেন, তা সঠিক। শুধু পুলিশ নয়, আইটিবিপি, সিআরপিএফ এবং দেশের সাধারণ মানুষও তাঁদের পাশে রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। রাহুলের বক্তব্য, এক দিকে ভোট চুরি ও দেশকে ‘হাইজ্যাক’ করার কারিগরেরা, অন্য দিকে তাঁদের বিরুদ্ধে সরব মানুষ।
শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে ধরপাকড়ের প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক হন রাহুল। তাঁর অভিযোগ, ভোট চুরির প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হলেও গোটা দিল্লিকে কার্যত জেলখানায় পরিণত করা হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করতে সরকার যত বেশি পুলিশ মোতায়েন করবে, প্রতিবাদ ততই ছড়াবে বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
রাহুলের কথায়, গত ১২ বছরে মানুষের মনে জমে থাকা ক্ষোভ ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি অরাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলিও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছে বলে দাবি তাঁর। এই আন্দোলন থামবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা।
তবে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দফতরে ২০০ জন আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ এবং পুলিশের অর্ধেকের সমর্থন রাহুলের এই দুই দাবির সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা যায়নি। ফলে তাঁর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক তরজা বাড়লেও, দাবিগুলির পক্ষে কী তথ্য সামনে আসে, এখন নজর সেদিকেই।





