বহরমপুর, ১২ অক্টোবরঃ রাতের খাবার খাওয়ার পরেই একে একে অসুস্থ হয়ে পড়লেন ছাত্রীরা। কারও শরীরে নেশাগ্রস্তের মতো উপসর্গ, কেউ আবার স্বাভাবিক থাকতে পারছেন না! বহরমপুরের কেন্দ্রীয় তপশিল গার্লস হস্টেলে এমনই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, হস্টেলের খাবারে মাদকজাতীয় কিছু মেশানো হয়েছিল। সেই খাবার খেয়েই অন্তত ৪৪ জন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের দ্রুত মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে ছাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে হস্টেলের এক রাঁধুনিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি বহরমপুরের টেক্সটাইল কলেজ মোড় সংলগ্ন কেন্দ্রীয় তপশিল গার্লস হস্টেলের। অন্যান্য দিনের মতো শনিবার রাতেও হস্টেলের ছাত্রীরা খাবার খান। কিন্তু তার কিছুক্ষণের মধ্যেই একের পর এক ছাত্রী অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন। পরিস্থিতি বুঝে হস্টেলের নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে অসুস্থ ছাত্রীদের চিকিৎসা চলছে।
ছাত্রীদের অভিযোগ, রাতের খাবারে মাদক মেশানো হয়েছিল। সেই খাবার খাওয়ার পরেই তাঁদের শরীরে অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দেয়। তাঁদের দাবি, বমি বা অন্য কোনও পরিচিত শারীরিক সমস্যা না হলেও অনেকেই নেশাগ্রস্তের মতো আচরণ করতে শুরু করেন। কী কারণে এত জন ছাত্রী একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়লেন, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
ঘটনার পর হস্টেলের রান্নাঘরের একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে এক ব্যক্তিকে খাবারে কিছু মেশাতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও ফুটেজটির সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা হয়নি। ছাত্রীদের আরও দাবি, পনিরের তরকারি তাঁদের দু’জন সহপাঠী এবং হস্টেলের নিরাপত্তারক্ষী ও রাঁধুনি খাননি। যাঁরা ওই খাবার খেয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যেই অসুস্থতার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। তবে খাবারে আদৌ কোনও মাদক বা অন্য কোনও পদার্থ মেশানো হয়েছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
ইতিমধ্যে বহরমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ছাত্রীরা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আটক রাঁধুনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অন্য দিকে, ঘটনার পর ছাত্রীদের হাসপাতালে পাঠানোই প্রথম অগ্রাধিকার ছিল বলে জানিয়েছে হস্টেল কর্তৃপক্ষ। সেই কারণে দ্রুত পুলিশে খবর দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে দাবি এক আধিকারিকের।
একসঙ্গে এত জন ছাত্রীর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে। খাবারের নমুনা পরীক্ষা, চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ এবং পুলিশের তদন্তেই স্পষ্ট হতে পারে, ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। আপাতত সেই দিকেই নজর।





