যাদবপুর, ১২ অক্টোবরঃ একটি সোশাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক এবার পৌঁছল থানার দরজায়। যাদবপুরের বাড়িতে হামলার অভিযোগ তুলে ‘হিন্দুত্ববাদী গুন্ডারা’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছিলেন বর্ষীয়ান আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। সেই মন্তব্য ঘিরেই আপত্তি তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পোস্ট থেকে ওই শব্দ মুছে ফেলার জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর এ বার কলকাতার গড়ফা ও তপসিয়া থানায় দায়ের হওয়া পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতে বিকাশরঞ্জনকে তলব করা হল। পরপর দু’দিন তাঁকে থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার ভোরে। অভিযোগ, যাদবপুরে বিকাশরঞ্জনের বাড়িতে হামলা চালায় কয়েক জন দুষ্কৃতী। মুখে কাপড় বেঁধে বাড়ি লক্ষ্য করে কাচের বোতল ও পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পরেই ফেসবুকে পোস্ট করে এই হামলার জন্য ‘হিন্দুত্ববাদী গুন্ডা’দের দায়ী করেন তিনি। সেই শব্দবন্ধ নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক। পুলিশের দাবি, ঘটনায় অভিযুক্ত সন্দেহে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতেরা তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী বলে পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে।
এই প্রেক্ষিতেই বিকাশরঞ্জনের পোস্টের ভাষা নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিতর্কিত শব্দটি মুছে ফেলার নির্দেশ দিলেও বিকাশরঞ্জন তাতে সম্মত হননি বলে জানা গিয়েছে। এর পরেই গড়ফা থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন প্রীতম দত্ত। তপসিয়া থানাতেও অভিযোগ জমা পড়ে। বিজেপি কর্মী সুরজ সিং ওই অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গিয়েছে। দুই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে তলব করেছে পুলিশ।
বিতর্ক অবশ্য শুধু কলকাতার দুই থানাতেই সীমাবদ্ধ নেই। রবিবার বোলপুর থানাতেও বিকাশরঞ্জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। সংগঠনের সদস্য সৌরীশ মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তদন্তের আগেই একটি বিশেষ মতাদর্শের অনুসারীদের দায়ী করে মন্তব্য করেছেন ওই বাম নেতা। তাঁর দাবি, এই মন্তব্য হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি আপত্তিকর এবং আঘাতদায়ক।
এক দিকে বাড়িতে হামলার অভিযোগ, অন্য দিকে সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিচয় ও শব্দচয়ন নিয়ে বিতর্ক দুইয়ের টানাপড়েনে ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে পরিস্থিতি। এখন নজর, থানায় তলবের পর বিকাশরঞ্জন কী বক্তব্য দেন এবং অভিযোগগুলির তদন্তে পুলিশ কী পদক্ষেপ করে।





