নয়াদিল্লী, ১১ অক্টোবরঃ রাতভর আটক। কোথায় রাখা হয়েছিল, তা নিয়েও ধোঁয়াশা। রবিবার সকালে আদালতে হাজির করানোর পর অবশেষে মুক্তি পেলেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং তাঁর দুই সহযোগী আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর ছাড়া পেলেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীও। তবে সিজেপি নেতাদের মুক্তি মিলেছে শর্তসাপেক্ষে। আগামী এক বছর শান্তিভঙ্গ করা যাবে না এই শর্তেই তাঁদের ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আগেই রাজধানীতে ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ।
শনিবার মুম্বই থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন অভিজিৎ, আশুতোষ ও সৌরভ। সকাল ১০টা ১৯ মিনিট নাগাদ তাঁদের বিমান দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পরই উড়ানের ভিতর থেকে তিন জনকে আটক করা হয় বলে অভিযোগ। পরে তাঁদের আলাদা জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১২৬ ও ১৭০ ধারায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপের কথা জানা যায়। তবে শনিবার দিনভর তাঁরা কোথায় ছিলেন, তা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য মেলেনি।
রবিবার সকালে তিন নেতাকে দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করানো হয়। তার পরেই তাঁদের মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।
তিন নেতার মুক্তির পরেই সমাজমাধ্যমে বিবৃতি দেয় সিজেপি। সেখানে লেখা হয়, “অবশেষে দিল্লি পুলিশ অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসকে মুক্তি দিতে বাধ্য হল। আরশোলা কখনও মরে না।” রবিবার দুপুর ২টো নাগাদ সাংবাদিক বৈঠক করার কথা জানিয়েছে দলটি। সেখানে শনিবারের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আরও বক্তব্য সামনে আসতে পারে।
অন্য দিকে, শনিবার সকালে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এ নিজের বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছিল ধ্রুব রাঠীকে। গভীর রাতে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং ঘটনাটিকে ‘অপহরণ’ বলে অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগেই তাঁকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
সিজেপির কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তা, আটক ও মেট্রো পরিষেবা বন্ধ রাখা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিন নেতার মুক্তি হলেও শনিবার তাঁদের কোথায় রাখা হয়েছিল, সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনও মেলেনি। ফলে মুক্তির পরেও বিক্ষোভ ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক থামার লক্ষণ নেই।





