কলকাতা, ১১ অক্টোবরঃ খবরে থাকতে দিল্লি কেন, বাংলাদেশেও চলে যান! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এ ভাবেই কটাক্ষ করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ, তার জেরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আটক হওয়ার ঘটনা সব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। সেই আবহেই ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্ত’ বলে আক্রমণ করলেন দিলীপ। তাঁর দাবি, এই আন্দোলনের পিছনে বিদেশি অর্থসাহায্য রয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সমর্থনে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ তিনি প্রকাশ্যে তুলে ধরেননি।
রবিবার সকালে ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দিলীপ। দিল্লিতে মমতার ধরনা ও আটক হওয়ার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, তৃণমূলকে মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছেন। রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই এ ধরনের কর্মসূচি করা হচ্ছে বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
দিলীপের কথায়, “সম্পূর্ণ ভাবে মানুষের দ্বারা বর্জিত। রেজিনগরের মতো আসন, যা তৃণমূল-কংগ্রেসের কাছে ছিল, সেখানে টিএমসির দুই দল মিলিয়ে ৩ শতাংশ ভোটও পায়নি। এই ধরনের পার্টির অস্তিত্ব নেই। দিল্লিতে যান, বাংলাদেশে আন্দোলন হচ্ছে। খবরে ভেসে থাকার জন্য সেখানেও চলে যান। তাতে পার্টির কোনও লাভ হবে না।”
‘বিদেশি ফান্ডিং, রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির কাজ’
দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির বিক্ষোভ নিয়েও সরব হন দিলীপ। শনিবার যন্তর মন্তরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তা, ধরপাকড় এবং বিক্ষোভকারীদের আটক করার ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা চলছে। সেই প্রসঙ্গেই দিলীপের অভিযোগ, আন্দোলনের পিছনে বিদেশি অর্থসাহায্য ও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির ভূমিকা রয়েছে।
তিনি বলেন, “বিদেশি ফান্ডিং, রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির কাজ। এরা এই রকম করতেই থাকে। আন্দোলন করছে, করুক।”
দিলীপের আরও দাবি, সরকার মানুষের স্বার্থেই ব্যবস্থা নিয়েছে। তাঁর কথায়, “এটা চক্রান্ত বোঝাই যাচ্ছে। সরকার ভরসা করতে পারবে না। ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে মানুষের স্বার্থে। ওরা আন্দোলন করছে করুক।”
রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেছে সিজেপি। অন্য দিকে, এই আন্দোলন এবং দিল্লিতে মমতার কর্মসূচিকে ঘিরে বিজেপির আক্রমণ অব্যাহত। দিলীপের মন্তব্যে সেই রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হল। তবে বিদেশি অর্থসাহায্য ও রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্তের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে নির্দিষ্ট তথ্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।





