নন্দীগ্রাম, ৯ অক্টোবরঃ নন্দীগ্রামে পদ্মের ঝড় থামল না। বরং উপনির্বাচনে জয়ের ব্যবধান বাড়িয়ে নতুন নজির গড়ল বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে আসা কেন্দ্রে ১ লক্ষ ২২ হাজার ১৩৬ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হলেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। তবে এই বিপুল জয়ের পাশাপাশি নজর কেড়েছে অন্য একটি হিসাব তৃণমূলকে পিছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে কংগ্রেস। আর সেই ফল ঘিরেই প্রশ্ন, ভোটের আগে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের গ্রেপ্তারি কি ভোটের সমীকরণে কোনও প্রভাব ফেলেছিল?
১৫ রাউন্ডের গণনা শেষে হাসিরানির জয় নিশ্চিত হতেই বিজেপি শিবিরে উচ্ছ্বাস। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম দুই কেন্দ্রেই লড়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। দু’জায়গাতেই জয়ের পরে ভবানীপুর ধরে রেখে নন্দীগ্রাম ছাড়েন তিনি। সেই আসনেই উপনির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয় রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
কিন্তু নন্দীগ্রামের ভোটের আগে পরিস্থিতি ছিল যথেষ্ট নাটকীয়। প্রার্থী বাছাই নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে টানাপড়েনের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। পরে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা জানান মমতা। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার হন মিলন। উপনির্বাচনের আগে প্রায় ১২ দিন জেলবন্দি থাকার পর অন্তর্বর্তী জামিনে মুক্তি পান তিনি।
ফল প্রকাশের পরে কংগ্রেসের দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা ঘিরে তাই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে কাটাছেঁড়া। তবে মিলনের গ্রেপ্তারি ভোটারদের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলেছে, তা নিশ্চিত করে বলার অবকাশ নেই।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য কংগ্রেসের উত্থানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন। তাঁর কটাক্ষ, “কংগ্রেস মরা দল। রাহুল গান্ধীকে নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরলেও ওদের কিছু হবে না।” মিলনের গ্রেপ্তারিকে ঘিরে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও নস্যাৎ করেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, আদালতের নির্দেশ ও আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই পদক্ষেপ করা হয়েছিল।
বিজেপির জয়ের ব্যবধান যতই বড় হোক, নন্দীগ্রামের ফলের দ্বিতীয় বার্তাটিও গুরুত্বপূর্ণ তৃণমূলের পিছনে পড়ে যাওয়ার কারণ কী, আর কংগ্রেসের ভোট বাড়ল কেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন রাজনৈতিক মহলের নজর নন্দীগ্রামের ভোটের অঙ্কে।





