নয়াদিল্লী, ৯ অক্টোবরঃ প্রতিবাদ নিয়ন্ত্রণের নামে জনজীবন স্তব্ধ করা যায় না। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘিরে দিল্লিতে গণপরিবহণ ও রাস্তায় কড়াকড়ি নিয়ে এই বার্তাই দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের পর্যবেক্ষণ, প্রতিবাদ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে পারে। কিন্তু তার জন্য সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অধিকার খর্ব করা চলে না। এই প্রসঙ্গেই তাঁর তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, “একটা মাছি মারার জন্য হাতুড়ি ব্যবহার করা যায় না।” দিল্লিতে নিরাপত্তার নামে অতিরিক্ত বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি এবং বিরোধী সাংসদ কপিল সিবল।
করকোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। একাধিক রাস্তায় ব্যারিকেড, মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং রেল চলাচলে বিধিনিষেধের জেরে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগের আশঙ্কা তৈরি হয়। শহরজুড়ে প্রায় ২৬ হাজার নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েনের কথাও উঠে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জন্য কেন গণপরিবহণে এমন কড়াকড়ি, সেই প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ হন আবেদনকারীরা।
শুনানিতে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে সেই ব্যবস্থা যেন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়। যে রাস্তাগুলি ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করা হচ্ছে, সেগুলির বিকল্প পথের ব্যবস্থা রাখার কথাও দিল্লি সরকারকে মনে করিয়ে দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বহু মানুষের নিজস্ব গাড়ি নেই। কাজের প্রয়োজনে তাঁদের গণপরিবহণের উপর নির্ভর করতে হয়। সেই অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। শুনানিতে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, মেট্রো স্টেশন খোলা রাখার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
এদিকে, দিল্লিতে রেল ও মেট্রো পরিষেবা ঘিরে বিধিনিষেধের প্রভাব দূরপাল্লার যাত্রীদের উপরেও পড়েছে বলে অভিযোগ। কয়েকটি ট্রেন বাতিল এবং স্টেশনে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের খবর সামনে এসেছে। প্রতিবাদ মোকাবিলায় নিরাপত্তা ও নাগরিকের চলাচলের অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য রাখা যে জরুরি, সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে সেই প্রশ্নই ফের সামনে এল।





