রেজিনগর, ৯ অক্টোবরঃ ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পর উপনির্বাচনেও বিজেপির জয়রথ অব্যাহত। নন্দীগ্রামে প্রত্যাশিত জয়ের পাশাপাশি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগরেও বিপুল ব্যবধানে জয় পেল পদ্মশিবির। শুক্রবার ভোটের ফল প্রকাশের পর এই সাফল্যকে রাজ্যের রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ বলে ব্যাখ্যা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটারদের সমর্থনের কথা তুলে ধরে তাঁর দাবি, এত দিন বিজেপিকে ঘিরে যে প্রচার চলেছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তার প্রভাব কাটিয়ে উঠেছেন ভোটারদের একাংশ।
নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের জয় ছিল প্রত্যাশিত। কিন্তু রেজিনগরের ফলাফল ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ ছিল অনেক বেশি। এই কেন্দ্রে এর আগে বিজেপি জয় পায়নি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও জয়ী হয়েছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর। উপনির্বাচনে তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদ প্রার্থী হওয়ায় লড়াইয়ের গুরুত্ব আরও বেড়েছিল। কিন্তু গণনা শেষে দেখা যায়, বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার ৭৫ হাজার ৬৯১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
এই ফলকে হাতিয়ার করেই সংখ্যালঘু ভোটের প্রচলিত সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শুভেন্দু। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি সংখ্যালঘু ভোটারদের ধন্যবাদ জানান। তাঁর বক্তব্য, ‘৭০-৩০’ শতাংশের বিভাজন দেখিয়ে যে রাজনৈতিক মেরুকরণের কথা বলা হয়, রেজিনগরের ফল সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। বিজেপিকে নিয়ে বাম ও তৃণমূলের প্রচার যে ভোটারদের একাংশ আর বিশ্বাস করছেন না, এমনই দাবি মুখ্যমন্ত্রীর।
রেজিনগরের ফল হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। তাঁর ছেলের প্রার্থিতা সত্ত্বেও বিপুল ব্যবধানে বিজেপির জয় সংখ্যালঘু ভোটের সমীকরণ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করেছে।
তবে একটি উপনির্বাচনের ফল দিয়ে রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটের সামগ্রিক প্রবণতা নির্ধারণ করা যায় না। তা সত্ত্বেও রেজিনগরের এই জয় বিজেপির কাছে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়ন ও জনসংযোগের বার্তা দিয়ে রাজ্যে নিজেদের সমর্থনের পরিধি বাড়ানোর দাবি আরও জোরালো করল গেরুয়া শিবির।





