শীতলকুচি, ৫ অক্টোবরঃ নদী আছে, দু’পারে জনবসতিও রয়েছে। কিন্তু নেই একটি সেতু। ফলে কয়েক কিলোমিটারের পথ পেরোতেও ঘুরপথে যেতে হচ্ছে এলাকার বাসিন্দাদের। ধরলা নদীর উপর কাশেম আলীর ঘাটে সেতু নির্মাণের দাবিতে এবার সরব হলেন শীতলকুচি ব্লকের চেঙ্গেরকুঠি-খলিসামারি এবং মাথাভাঙা-১ ব্লকের ময়নতলী এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের দাবি, ধরলা নদী দুই এলাকার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে কার্যত বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদীর এক পারে চেঙ্গেরকুঠি ও খলিসামারি এলাকা, অন্য পারে কুর্শামারি গ্রাম পঞ্চায়েতের তেঁতুলের ছড়া। মাঝখানে নদীর কারণে দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে দুই এলাকার স্বাভাবিক যোগাযোগ।
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় পড়ুয়াদের। চেঙ্গেরকুঠি-খলিসামারি এলাকার বহু ছাত্রছাত্রী ময়নতলী হাই স্কুলে পড়াশোনা করে। প্রতিদিন নদী পেরিয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে গিয়ে তাঁদের নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বর্ষায় ধরলায় জল বাড়লে সেই দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ থাকে অভিভাবকদের।
শুধু স্কুলপড়ুয়া নয়, চিকিৎসার ক্ষেত্রেও এই যোগাযোগের অভাব বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি বাসিন্দাদের। ধরলার উপর সেতু না থাকায় মাথাভাঙা মহকুমা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হলে অনেকটা ঘুরপথে যেতে হয়। ফলে অসুস্থ রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও সময় নষ্ট হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে বলে স্থানীয়দের বক্তব্য।
বাসিন্দাদের দাবি, কাশেম আলীর ঘাটে একটি সেতু তৈরি হলে দুই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। স্কুল, বাজার, হাসপাতাল-সহ বিভিন্ন পরিষেবায় যাতায়াত সহজ হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতি ও দৈনন্দিন যোগাযোগ ব্যবস্থাও আরও গতি পাবে বলে মনে করছেন তাঁরা।
দীর্ঘদিনের এই দাবি পূরণে দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগের আর্জি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং সাধারণ মানুষ। তাঁদের বক্তব্য, ধরলার উপর একটি সেতু শুধু দু’টি এলাকার দূরত্ব কমাবে না, কমাবে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগও।





