মাথাভাঙ্গা, ৫ অক্টোবরঃ এক সময়ে ২১ আসনের গ্রাম পঞ্চায়েতে ১৮ সদস্যের দাপট ছিল তৃণমূলের। বিজেপির হাতে ছিল মাত্র তিনটি আসন। সেই তিন সদস্যই এ বার একজোট হয়ে গড়ে ফেললেন নতুন বোর্ড। সোমবার মাথাভাঙা-১ ব্লকের শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচনের পর ক্ষমতা গেল বিজেপির হাতে। নতুন প্রধান হলেন ধনোবালা বর্মন। উপপ্রধানের দায়িত্ব নিলেন দীনেশ পাটোয়ারি।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২১ আসনের শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ১৭টি এবং বিজেপি চারটি আসনে জয় পেয়েছিল। পরে বিজেপির এক নির্বাচিত সদস্য তৃণমূলে যোগ দেন। ফলে তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ এবং বিজেপির সদস্য কমে হয় তিন।
এর পরেই বদলাতে শুরু করে পরিস্থিতি। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে তৃণমূলের প্রধান পদ থেকে ইস্তফা দেন বলে জানা গিয়েছে। পরবর্তীতে দলের আরও কয়েক জন সদস্য পদত্যাগ করেন। ফলে কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ে পঞ্চায়েত। গত কয়েক মাস ধরে উন্নয়নমূলক কাজকর্মেও তার প্রভাব পড়ে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
সোমবার সেই অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে পঞ্চায়েতের দায়িত্ব নিলেন বিজেপির তিন সদস্য। প্রধান গঠনের প্রক্রিয়ায় ধনোবালা বর্মনকে প্রধান এবং দীনেশ পাটোয়ারিকে উপপ্রধান নির্বাচিত করা হয়। নতুন বোর্ড গঠনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ের সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা।
প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচনের পরেই শুরু হয় উচ্ছ্বাস। কর্মী-সমর্থকেরা একে অপরকে গেরুয়া আবির মাখিয়ে আনন্দে মাতেন। দলীয় পতাকা নিয়ে চলে উল্লাসও।
তবে রাজনৈতিক সমীকরণের এই নাটকীয় বদলের পর এখন নতুন বোর্ডের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ পঞ্চায়েতের কাজের গতি ফেরানো। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে থমকে থাকা উন্নয়নমূলক কাজ কী ভাবে দ্রুত শুরু করা যায়, সেদিকেই নজর স্থানীয় বাসিন্দাদের। রাস্তা, নিকাশি, পানীয় জল-সহ বিভিন্ন স্থানীয় পরিষেবা স্বাভাবিক করার দাবি রয়েছে তাঁদের।
মাত্র তিন সদস্য নিয়ে বিজেপি কী ভাবে পঞ্চায়েত পরিচালনা করে এবং উন্নয়নমূলক কাজকে কতটা গতি দিতে পারে, এখন সেটাই দেখার। শিকারপুরে পালাবদলের পর তাই রাজনৈতিক উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি নজর প্রশাসনিক কাজের দিকেও।





