কোচবিহার, ৫ অক্টোবরঃ পুজোর মরশুমে বাজারে বাড়তে পারে ভিড়। আর তার সঙ্গে বাড়ে সোনার দোকানগুলিতে চুরি, অগ্নিকাণ্ড কিংবা অন্য কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কাও। সেই ঝুঁকি মাথায় রেখে এ বার আগেভাগেই নড়েচড়ে বসল কোচবিহার পুলিশ। শহরের বিভিন্ন সোনার দোকানে গিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় সতর্কতাও দেওয়া হল।
সোমবার কোচবিহার জেলা ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে শহরের বিভিন্ন সোনার দোকান পরিদর্শন করেন কোচবিহার পুলিশের ডিএসপি হেডকোয়ার্টার বিক্রম প্রসাদের নেতৃত্বাধীন পুলিশ আধিকারিকরা। পুজোর আগে দোকানগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত, মূলত সেটিই খতিয়ে দেখা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিদর্শনের সময় দোকানগুলিতে সিসিটিভি ক্যামেরা ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, অ্যালার্ম সিস্টেম রয়েছে কি না, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কার্যকর অবস্থায় রয়েছে কি না সবই পরীক্ষা করে দেখা হয়। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগের জন্য প্রয়োজনীয় ফোন নম্বর দোকানে রাখা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হয়।
পুলিশের নজরে আসে, কয়েকটি দোকানে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কিছু খামতি রয়েছে। কোথাও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি, কোথাও আবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন আধিকারিকেরা। দোকান মালিকদের দ্রুত সেই ঘাটতি পূরণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিশেষ করে পুজোর সময়ে ক্রেতাদের ভিড় বাড়লে দোকানের ভিতরে নজরদারি আরও বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা, অ্যালার্ম ব্যবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম হাতের কাছে রাখার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়।
পুলিশের এই উদ্যোগে সঙ্গে ছিলেন কোচবিহার জেলা ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সম্পাদক পঙ্কজ বুচ্চা-সহ সংগঠনের অন্যান্য প্রতিনিধিরা। ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশকে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের এই পরিদর্শনকে পুজোর আগে নিরাপত্তা প্রস্তুতির অংশ হিসাবেই দেখছে ব্যবসায়ী মহল। উৎসবের মরশুমে বাজারে বাড়তি ভিড়ের মধ্যেও যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই আগাম সতর্কতা বলেই পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।





