দিনহাটা, ৫ অক্টোবরঃ আসবাবপত্রের বকেয়া টাকা মকুব করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক মহিলাকে দোকানে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল এক দোকানদারের বিরুদ্ধে। ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে দুই বিজেপি নেত্রীর বিরুদ্ধেও। দিনহাটার পুটিমারি এলাকার এই ঘটনায় ৪ অক্টোবর রাতে দিনহাটা মহিলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই মহিলা। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
অভিযোগকারী মহিলার দাবি, পুটিমারি এলাকার একটি দোকান থেকে তিনি বাকিতে আসবাবপত্র কিনেছিলেন। পরে কিস্তিতে সেই টাকা পরিশোধ করছিলেন। কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারণে একটা সময় নিয়মিত কিস্তি দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। সেই বকেয়া টাকা মেটানো নিয়েই তাঁর সঙ্গে দোকানদারের যোগাযোগ চলছিল বলে অভিযোগ।
মহিলার অভিযোগ, গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টে নাগাদ দোকানদার সুরজ আক্তার এবং দিনহাটা-২ এলাকার দুই বিজেপি নেত্রী সাবানা খাতুন ও মাম্পী বর্মনের সহযোগিতায় তাঁকে ওই দোকানে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বকেয়া টাকা মকুব করে দেওয়ার কথা বলা হয়। অভিযোগ, সেই সুযোগে দোকানদার তাঁকে জোর করে ধর্ষণ করেন। মহিলার দাবি, বকেয়া টাকা পরিশোধের পরিবর্তে তাঁকে ওই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছিল বলে জানানো হয়।
ঘটনার পরেও তাঁকে চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগকারিণীর দাবি। তাঁর অভিযোগ, দুই বিজেপি নেত্রী তাঁকে ফের ওই দোকানদারের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার জন্য চাপ দেন। তাতে রাজি না হয়ে তিনি গোটা বিষয়টি স্বামীকে জানান। এর পরেই পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
গত ৪ অক্টোবর রাতে দিনহাটা মহিলা থানায় দোকানদার-সহ তিন জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগকারিণীর বক্তব্য, অভিযুক্তদের ভূমিকা এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে বিজেপি নেত্রী সাবানা খাতুনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অন্য অভিযুক্ত মাম্পী বর্মন বর্তমানে কোচবিহারের এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানা গিয়েছে।
অন্য দিকে, অভিযুক্ত দোকানদারের পাল্টা দাবি, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য বিজেপি নেত্রী সাবানা খাতুন তাঁর কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা নিয়েছেন। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে।





