নয়াদিল্লি, ৫ অক্টোবরঃ এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ঘিরে উঠল আরও একগুচ্ছ প্রশ্ন। ‘ফর্ম ৬’-এ কোনও পরিবর্তনের অনুমতি দেওয়া হয়নি সোমবার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে দায়ের মামলার শুনানিতে স্পষ্ট জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই সঙ্গে আদালতের প্রশ্ন, যদি সত্যিই কোনও বদল হয়ে থাকে, তা হলে কার নির্দেশে সেই পরিবর্তন করা হয়েছিল? এক সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্র এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাব চাইল প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ।
এসআইআর, নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে একাধিক মামলা সোমবার ওঠে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি উপেক্ষা করে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। নতুন ভোটারের নাম নথিভুক্ত করার ‘ফর্ম ৬’-এও বিশেষ শর্ত যোগ করার অভিযোগ ওঠে। সেই প্রতিবেদনকে ভিত্তি করেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়।
তবে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরাসরি কোনও নির্দেশ দিতে নারাজ শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, সংবাদপত্রের প্রতিবেদন পুরোপুরি সঠিক হতে পারে, আংশিক সঠিক হতে পারে, আবার ভুলও হতে পারে। তাই তার ভিত্তিতে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে কমিশনের বক্তব্য অবশ্যই জানতে চায় আদালত।
শীর্ষ আদালতের বক্তব্য, জবাব পাওয়ার পরে যদি দেখা যায় কোথাও আইন বা বিধি মানা হয়নি, সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত বাতিলও করা হতে পারে। অর্থাৎ, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে এখনই কোনও কঠোর পদক্ষেপে যেতে চাইছে না আদালত।
এসআইআরের লক্ষ্য মৃত, নিখোঁজ এবং অযোগ্য ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া। সেই প্রক্রিয়াতেই নতুন ভোটারদের নাম তোলার জন্য ব্যবহৃত ‘ফর্ম ৬’-এ অতিরিক্ত শর্ত আরোপের অভিযোগকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। কারণ, ‘ফর্ম ৬’ ভোটার নিবন্ধন বিধিমালা, ১৯৬০-এর অধীন একটি নির্ধারিত বিধিবদ্ধ নথি। ফলে আইন মেনে অনুমোদন ছাড়া তাতে পরিবর্তন করা যায় কি না, উঠছে সেই প্রশ্নই।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার প্রভাব কতটা বিস্তৃত হতে পারে, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা। পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়েও তখন নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে আপাতত সুপ্রিম কোর্টের নজর অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং কমিশনের জবাবের দিকে। সেই জবাবেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিশা স্পষ্ট হতে পারে।





