শিলিগুড়ি, ৫ অক্টোবরঃ রাতের পাহাড়ি রাস্তা। টানা বৃষ্টি। তার মধ্যেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় ২০০ ফুট গভীর খাদে পড়ল গাড়ি। ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক যুবকের। আহত আরও পাঁচ জন। তাঁদের উত্তরবঙ্গের একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। রবিবার রাতে কার্শিয়াঙের রোহিণী রোডের কার্গিল ধারা এলাকায় এই দুর্ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম অভিষেক সাহা। তিনি শিলিগুড়ি বিধান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির অন্যতম সদস্য বাপি সাহার ছেলে। কয়েক জন বন্ধুর সঙ্গে কার্শিয়াঙে ঘুরতে গিয়েছিলেন অভিষেক। রবিবার রাতে সেখান থেকে শিলিগুড়ির দিকে ফেরার সময় রোহিণীর কার্গিল ধারা এলাকায় আচমকাই গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর রাস্তার পাশের গভীর খাদে গড়িয়ে পড়ে গাড়িটি।
স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনার সময় এলাকায় প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টির জেরেই রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান স্থানীয়দের। যদিও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
দুর্ঘটনার পর প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দারাই ছুটে যান ঘটনাস্থলে। তাঁদের চেষ্টায় কোনও মতে দু’জনকে গাড়ি থেকে বার করা সম্ভব হয়। পরে পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আরও তিন জনকে উদ্ধার করেন। গাড়ির ভিতরে আটকে ছিলেন অভিষেক। বেশ কিছুটা সময় ধরে চেষ্টা চালানোর পর তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
আহত পাঁচ জনকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে দু’জনের কার্শিয়াঙের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। বাকি তিন জনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতেই তাঁদের শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
তবে এই দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, ঘটনাস্থল থেকে থানা এবং দমকল কেন্দ্রের দূরত্ব প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। তা সত্ত্বেও খবর পাওয়ার প্রায় ৪৫ মিনিট পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দমকলের সঙ্গেও একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনে কাউকে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক উদ্ধারকাজে স্থানীয়দেরই বড় ভূমিকা নিতে হয়।
পাহাড়ি রাস্তায় রাতের বৃষ্টির মধ্যে ফের এই দুর্ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে রোহিণী রোডের নিরাপত্তা এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া নিয়ে।





