কলকাতা, ৫ অক্টোবরঃ রুপোলি পর্দা থেকে এ বার সরাসরি রাজনীতির মঞ্চে। আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগ দিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। রবিবারই রাজ্যসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসাবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। সোমবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়ে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু করলেন অভিনেত্রী।
বিজেপিতে যোগ দিয়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানান কোয়েল। রাজনীতিতে তাঁর প্রবেশের লক্ষ্য নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। কোয়েলের কথায়, এই দায়িত্ব তাঁর কাছে সম্মানের, একই সঙ্গে বড় দায়িত্বও। মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চান তিনি। বাংলার মানুষ যাতে ভাল থাকেন, কাজের সুযোগ বাড়ে এবং শিক্ষার পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হয় সেই লক্ষ্যেই কাজ করতে চান বলে জানান অভিনেত্রী।
কোয়েল বলেন, ‘‘আমি সত্যিই সম্মানিত। এটা বিরাট দায়িত্ব। দেশের মানুষের কল্যাণের দায়িত্ব পালন করতে চাই।’’ বাংলায় আরও স্কুল তৈরির প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত মানুষের কথা মাথায় রেখে কাজ করার উপর জোর দেন।
তবে বিজেপিতে যোগদানের পর স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে তাঁর আগের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে। অতীতে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল কি না, সেই প্রশ্নের সরাসরি জবাব এড়িয়ে যান কোয়েল। তাঁর দাবি, অতীতে বা ভবিষ্যতে কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কিংবা কাউকে নিয়ে খারাপ মন্তব্য করার পথে হাঁটবেন না।
সক্রিয় রাজনীতিতে তাঁকে নিয়মিত দেখা যাবে কি না, সেই প্রশ্নেও কোয়েলের বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। মানুষের পাশে থাকা তাঁর কাছে নতুন কিছু নয় বলেই দাবি অভিনেত্রীর। ছোটবেলায় মায়ের সঙ্গে ‘মিশনারিজ অফ চ্যারিটি’-তে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জানান, ছোট বয়স থেকেই মানুষের সেবার সঙ্গে পরিচয় তাঁর। ‘‘আমি মানুষের জীবনে কোনও পার্থক্য করতে পারি, তাহলে ভাল হবে’’ বলেছেন কোয়েল।
এ দিকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে কটাক্ষের মুখেও পড়তে হয়েছে অভিনেত্রীকে। সেই প্রসঙ্গে অবশ্য আক্রমণাত্মক হননি কোয়েল। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা অন্যকে ছোট করে আনন্দ পান, তাঁদের প্রতি কোনও রাগ নেই। বরং তাঁদের মানসিক সুস্থতা কামনা করেন তিনি।
বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছাড়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিজেপিতে যোগ এবং রাজ্যসভায় গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী হওয়া কোয়েলের রাজনৈতিক যাত্রাপথে নতুন এই বাঁক এখন বাংলার রাজনীতিতে যথেষ্ট আলোচনার বিষয়।





