মাথাভাঙ্গা, ৪ অক্টোবরঃ নির্বাচন কমিশনের অপসারণ থেকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ একাধিক দাবিতে বিকেলে প্রতিবাদ মিছিল। আর তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাতের অন্ধকারে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল সিপিআইএমের পার্টি অফিসে। ভেঙে দেওয়া হয়েছে কার্যালয়ের ভিতরে থাকা চেয়ার-টেবিলও। ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে সিপিআইএম। যদিও অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে মাথাভাঙা-১ ব্লকের জোড়পাটকী এলাকায়।
শনিবার বিকেলে গোলোকগঞ্জ বাজার এলাকায় সিপিআইএমের জোড়পাটকী এরিয়া কমিটির উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। নির্বাচন কমিশনের অপসারণ, বৈধ ভোটারদের অবিলম্বে ভোটার তালিকায় নাম তোলা, অন্নপূর্ণা যোজনায় এখনও অন্তর্ভুক্ত না হওয়া যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করে মাসে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার দাবি জানানো হয় মিছিল থেকে। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ-সহ একাধিক দাবিও তুলে ধরা হয়।
অভিযোগ, মিছিল শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই রাতের অন্ধকারে জোড়পাটকীর সিপিআইএমের পাকা পার্টি অফিসে হামলা চালানো হয়। কার্যালয়ের ভিতরে ঢুকে চেয়ার-টেবিল-সহ একাধিক সামগ্রী ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সকালে বিষয়টি সামনে আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।
ঘটনার জন্য বিজেপিকে দায়ী করেছে স্থানীয় সিপিআইএম নেতৃত্ব। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক কর্মসূচির পর পরিকল্পিত ভাবেই দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
যদিও অভিযোগ মানতে নারাজ বিজেপি। বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য তথা ২ নম্বর মণ্ডলের প্রাক্তন সভাপতি রাজীব সরকার দাবি করেছেন, এই ভাঙচুরের সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁদের দলের নাম জড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁর।
মিছিল এবং তার পরেই দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর দুই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। কারা রাতের অন্ধকারে পার্টি অফিসে হামলা চালাল, কী কারণে এই ভাঙচুর এবং এর পিছনে কোনও রাজনৈতিক যোগ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। ঘটনার তদন্তে পুলিশ কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।





