মুর্শিদাবাদ, ৪ অক্টোবরঃ উপনির্বাচনের লড়াইয়ে শেষ মুহূর্তের জমি ছাড়তে নারাজ কোনও পক্ষই। রবিবার নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে প্রচারের শেষ দিনে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়তে চলেছে। মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর দুই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। ভোটগণনা ৯ অক্টোবর। তার আগে শেষ রবিবারে জনসংযোগ ও শক্তি প্রদর্শন দুই কৌশলেই ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছে বিজেপি ও কংগ্রেস।
নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের সমর্থনে শেষ দিনের প্রচারে সরাসরি নামছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার তাঁর দুটি পদযাত্রার কর্মসূচি রয়েছে। সকালে নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের টেঙ্গুয়া থেকে থানা মোড় পর্যন্ত পদযাত্রা করবেন তিনি। বিকেলে নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের রাজারামচক থেকে মিরের বাজার পর্যন্ত দ্বিতীয় পদযাত্রা হওয়ার কথা। বিজেপি সূত্রে খবর, কয়েক হাজার দলীয় কর্মী-সমর্থকের পাশাপাশি সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী-সহ একাধিক জনপ্রতিনিধি এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
গত পাঁচ মাসে রাজ্যে ও নন্দীগ্রামে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজকে সামনে রেখেই ভোট চাইছে বিজেপি। দলের নেতাদের দাবি, হাসিরানি রথ বিপুল ব্যবধানে জয়ী হবেন। যদিও সেই দাবি কতটা বাস্তবে প্রতিফলিত হয়, তার উত্তর মিলবে ভোটের ফলেই।
অন্যদিকে, নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের সমর্থনে শনিবার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের নেতৃত্বে হরিপুর থেকে নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ র্যালি হয়। রাজ্য ও স্থানীয় স্তরের একাধিক কংগ্রেস নেতা তাতে অংশ নেন।
র্যালি থেকে শুভঙ্কর সরকারের দাবি, নন্দীগ্রামে বিভিন্ন বিরোধী দলের ভোটাররা মিলন প্রধানের সমর্থনে একজোট হয়েছেন। তবে এই সমীকরণ ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে জল্পনা রয়েছে।
এদিকে, রেজিনগরে কংগ্রেস প্রার্থী কাফির সমর্থনে প্রচারে অংশ নেন প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী। শেষ দিনের প্রচারে দুই কেন্দ্রেই নিজেদের শক্তি প্রমাণে মরিয়া রাজনৈতিক দলগুলি।
নন্দীগ্রামে বিজেপির জোড়া পদযাত্রা, কংগ্রেসের র্যালি এবং রেজিনগরে অধীরের প্রচার সব মিলিয়ে এখন নজর মঙ্গলবারের ভোটে। শেষ মুহূর্তের প্রচার কোন দলের পক্ষে কতটা হাওয়া তৈরি করতে পারে, তারই পরীক্ষা হতে চলেছে ইভিএমে।





