কেরল, ৪ অক্টোবরঃ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্কের আবহেই নতুন করে সামনে এল দুই দশক আগের একটি মামলা। ২০০৬ সালে কেরলে একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ওঠা আর্থিক অনিয়ম ও ঘুষের অভিযোগের তদন্ত ফের শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে সে রাজ্যের কংগ্রেস সরকার। সেই সময় কেরলের পূর্ত দফতরের সচিব ছিলেন জ্ঞানেশ কুমার। তবে পুরনো এই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রমাণিত নয়।
বর্তমানে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে বিরোধী দলগুলির প্রতিবাদ ও আন্দোলন চলছে। এই পরিস্থিতিতে পুরনো মামলার তদন্ত ফের শুরু করার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা তৈরি করেছে।
২০০৬ সালে কেরলে ভি এস অচ্যুতানন্দনের নেতৃত্বে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় ছিল। সেই সময় মালয়েশিয়ার সংস্থা পাটি-বেল কেরলে প্রায় ২৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সড়ক নির্মাণের বরাত পায়। অভিযোগ, নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার পর সামান্য অনিয়মের কথা তুলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রাপ্য অর্থ আটকে দেওয়া হয়েছিল।
ওই সংস্থার চিফ ইঞ্জিনিয়ার কি শি বিন দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও আটকে থাকা টাকা আদায় করতে পারেননি বলে অভিযোগ। তাঁর কাছ থেকে অর্থ মেটানোর বিনিময়ে ঘুষ চাওয়া হয়েছিল বলেও দাবি ওঠে। পরে ওই ইঞ্জিনিয়ার আত্মহত্যা করেন। অভিযোগ, তাঁর সুইসাইড নোটে তৎকালীন পূর্ত সচিব জ্ঞানেশ কুমারের নাম ছিল।
ঘটনার পর জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে ভিজিল্যান্স বিভাগ। তবে কিছুদিনের মধ্যেই সেই তদন্ত বন্ধ হয়ে যায় বলে জানা গিয়েছে। সম্প্রতি কেরলের এক কংগ্রেস নেতা পুরনো মামলার ফাইল ফের খোলার আবেদন জানান। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই তদন্ত পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে জ্ঞানেশ কুমার সাংবিধানিক সুরক্ষা পান। তবে সেই সুরক্ষার পরিধি ও পুরনো অভিযোগের ক্ষেত্রে তার প্রযোজ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত সিদ্ধান্তের জন্য আইনি সুরক্ষা থাকলেও, দায়িত্বের বাইরের কোনও অভিযোগে তদন্তের বিষয়টি আলাদা করে বিবেচিত হতে পারে। তবে তদন্ত শুরুর নির্দেশ মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। দুই দশক আগের এই মামলায় নতুন তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।





