মুম্বাই, ৪ অক্টোবরঃ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ক্রমেই ছড়াচ্ছে। ইস্তফার দাবিতে শুক্রবার দিল্লি, মুম্বই-সহ দেশের একাধিক শহরে পথে নেমেছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র কর্মী-সমর্থকেরা। সেই বিক্ষোভের জেরেই এ বার মুম্বইয়ে মামলা দায়ের করল পুলিশ। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে, আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে। পাশাপাশি আরও প্রায় ৪০০ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকেও মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে খবর।
ঘটনার সূত্রপাত ২৭ সেপ্টেম্বর। মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে বিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন ডিপকে। কিন্তু সেই অনুমতি মেলেনি। এরপরই পুলিশের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ‘জেল ভরো আন্দোলন’-এর ডাক দেয় সিজেপি। শুক্রবার মুম্বইয়ের রাস্তায় সেই কর্মসূচি ঘিরেই জমায়েত করেন দলের কর্মী-সমর্থকেরা।
পুলিশের দাবি, অনুমতি ছাড়াই জমায়েত এবং প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে আয়োজকদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। যদিও মুম্বইয়ের বিক্ষোভ থেকে কাউকে আটক করা হয়নি। তুলনায় দিল্লির পরিস্থিতি ছিল অনেক বেশি উত্তপ্ত। সেখানে বিক্ষোভ ঘিরে প্রায় ৭০০ জনকে আটক করা হয় বলে জানা গিয়েছে।
মামলা হওয়ার পরও অবশ্য পিছু হটেননি ডিপকে। বরং সমাজমাধ্যমে মুম্বই পুলিশকে ‘সহযোগিতার জন্য’ ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের স্যালুট জানিয়ে একই সঙ্গে দিল্লি পুলিশকে কটাক্ষ করেছেন সিজেপি নেতা। তাঁর বক্তব্য, মুম্বই পুলিশের কাছ থেকে দিল্লি পুলিশের কিছু শেখা উচিত।
এদিকে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে সিজেপি। আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে ফের বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। ডিপকের হুঁশিয়ারি, জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা না দিলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ‘আরশোলা বাহিনী’ দিল্লিতে মিছিল করে আসবে।
তাঁদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের কার্যপদ্ধতি এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার জবাব দিতে হবে। ডিপকের দাবি, তাঁদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ এবং গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থেই এই কর্মসূচি। মুম্বইয়ের এফআইআর এবং দিল্লির আটক দুই ঘটনাকে ঘিরেই এখন আরও চড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। ১০ অক্টোবরের কর্মসূচিতে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, নজর সেদিকেই।





