কলকাতা, ৪ অক্টোবরঃ একাধিক সিম কার্ড, ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় এবং লেনদেনের সম্ভাব্য সূত্র বেআইনি বালি পাচার মামলায় ধৃত সুমিত রায়কে ঘিরে তদন্তে নতুন দিক উঠে এল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক হিসেবে পরিচিত সুমিতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিক সিম কার্ডের সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তার মধ্যে একটি সিম তাঁর নিজের নামে থাকলেও বাকিগুলি অন্য ব্যক্তিদের নামে নথিভুক্ত বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এই ব্যক্তিদের অধিকাংশই কালীঘাট ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের সঙ্গে সিম কার্ড ব্যবহারের যোগসূত্র খতিয়ে দেখতে চাইছেন তদন্তকারীরা।
এই সূত্র ধরেই সুমিতকে ফের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। জামিনের আবেদন খারিজ করে তাঁকে আরও দু’দিনের পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি আইনজীবী সৈয়দ নাজিম হাবিবের বক্তব্য অনুযায়ী, এর আগে ন’দিনের পুলিশি হেফাজতে সুমিতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গিয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, তাঁর ব্যবহৃত ফোনে নিজের নামে নথিভুক্ত সিমের পাশাপাশি অন্যদের নামে তোলা একাধিক সিমও ছিল। সেগুলির মধ্যে অধিকাংশ এখনও সক্রিয় রয়েছে বলেও তদন্তকারীদের দাবি।
কিন্তু অন্যদের নামে নথিভুক্ত সিমগুলি সুমিতের হাতে এল কীভাবে? সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মতি নিয়েই কি সেগুলি সংগ্রহ করা হয়েছিল, নাকি অন্য কোনও উপায়ে সিমগুলি তাঁর কাছে পৌঁছেছিল? এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে পুলিশ। সিমের নথিভুক্ত মালিকদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরিকল্পনা রয়েছে তদন্তকারীদের। প্রয়োজনে তাঁদের সুমিতের মুখোমুখি বসিয়েও জেরা করা হতে পারে।
তদন্তকারীদের অনুমান, একাধিক সিম ব্যবহারের পিছনে আর্থিক লেনদেনের কোনও যোগ থাকতে পারে। বিশেষত ইউপিআইয়ের মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা লেনদেনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে একাধিক সিম ব্যবহারের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের সরাসরি যোগসূত্র এখনও নিশ্চিত হয়নি। সেই কারণে বিষয়টি নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন আধিকারিকেরা।
উল্লেখ্য, শালবনীর জমি সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় প্রথমে সুমিত রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে বালি পাচার মামলাতেও তাঁকে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এবার একাধিক সিম কার্ডের সূত্র ধরে তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।





