মালদা, ৩ অক্টোবরঃ ৬ অক্টোবর মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতি নির্বাচন। তার ঠিক আগে বিক্ষুব্ধ তৃণমূল কংগ্রেস সদস্যদের গোপন আস্তানায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অভিযান ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল জেলার রাজনীতিতে। পুলিশি অভিযানের নেপথ্যে ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সদস্য সাগরিকা সরকার। তাঁর দাবি, জেলা পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে তাঁদেরই হাতে। যদিও এই দাবি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
৪৩ আসনবিশিষ্ট মালদা জেলা পরিষদে পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৩৪টি আসন পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কংগ্রেসের দখলে যায় পাঁচটি আসন এবং বিজেপি পায় চারটি। তৃণমূলের সভাধিপতি হন লিপিকা বর্মন ঘোষ এবং সহকারী সভাধিপতি নির্বাচিত হন এটিএম রফিকুল হোসেন। কিন্তু রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর জেলা পরিষদের অন্দরে তৃণমূলের একাংশের সঙ্গে নেতৃত্বের বিরোধ প্রকাশ্যে আসে।
সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন তৃণমূলের ১৯ জন সদস্য। তলবি সভার আগেই পদত্যাগ করেন সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতি। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে তলবি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সদস্যদের সমর্থন করেন কংগ্রেসের পাঁচ সদস্য। পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশে আগামী ৬ অক্টোবর নতুন করে সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতি নির্বাচনের দিন ধার্য হয়েছে।
এই নির্বাচনকে সামনে রেখেই রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সদস্যদের দাবি, তৃণমূলের ১৯ জন এবং কংগ্রেসের পাঁচ সদস্য তাঁদের পাশে রয়েছেন। সেই হিসাবে ২৪ জন সদস্যের সমর্থন রয়েছে তাঁদের দিকে। তবে বিজেপির চার সদস্য এখনও নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে দূরত্ব বজায় রাখার কথা জানিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। ফলে ভোটের অঙ্ক কোন দিকে যায়, তা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে।
এরই মধ্যে বিক্ষুব্ধ সদস্যদের গোপন ডেরায় পুলিশের অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাগরিকা সরকার। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের আগে এই পদক্ষেপের পিছনে ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। যদিও পুলিশের অভিযানের উদ্দেশ্য এবং অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি।
অন্য দিকে, বিজেপির মালদা সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায়ের বক্তব্য, তৃণমূলের সদস্যদের নিজেদের মধ্যে অনাস্থা নিয়ে বিজেপির কিছু বলার নেই। বিষয়টি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার বলেই মন্তব্য করেছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, ৬ অক্টোবরের নির্বাচনকে ঘিরে মালদা জেলা পরিষদের অন্দরে ক্ষমতার লড়াই আরও জোরালো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতির পদ কার দখলে যায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।





