কলকাতা, ২ অক্টোবরঃ দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ ঘিরে আর্থিক অনিয়মের তদন্তে নতুন মোড়। প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে যুক্ত সংস্থা ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর অ্যাকাউন্ট থেকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ব্যাঙ্কিং চ্যানেলে পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, ইন্দ্রনীল ওই অর্থকে ‘রয়্যালটি’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে ওই লেনদেনে কোনও অপরাধের অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আনেনি ইডি।
পুজোর প্রিভিউ পাস বিক্রি এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের তদন্তে গত মঙ্গলবার ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যুক্ত ১৫টি জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। পরের দিন প্রায় ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় প্রাক্তন মন্ত্রীকে। তদন্তকারীদের দাবি, ইন্দ্রনীল ও তাঁর মালিকানাধীন সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তাঁর মন্ত্রিত্বের সময় নগদে ৩.৮ কোটি টাকার বেশি জমা পড়েছিল। সেই অর্থের গতিপথও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইডির আরও অভিযোগ, ইন্দ্রনীলের মন্ত্রিত্বের সময়ে পর্যটন ও সংস্কৃতি দফতরের ৮৫ কোটি টাকার বেশি মূল্যের একাধিক টেন্ডার তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে চিহ্নিত দু’টি সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল। ওই সংস্থাগুলি থেকে পরে ইন্দ্রনীলের আত্মীয়দের নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থায় টাকা যাওয়ার অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
এই তদন্তের সূত্রেই মমতার অ্যাকাউন্টে টাকা যাওয়ার তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপি নেতারা লেনদেনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্য দিকে, তৃণমূলের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ও সুর করা গান এবং অন্যান্য সৃষ্টিকর্মের বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য বৈধ রয়্যালটি হিসেবে ওই অর্থ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তৃণমূলের কুণাল ঘোষের দাবি, সেই লেনদেনের আয়কর সংক্রান্ত নথিও রয়েছে।
অর্থাৎ, আপাতত তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে টাকার উৎস, লেনদেনের চরিত্র এবং পুজোর ‘প্রিভিউ শো’ থেকে সংগৃহীত অর্থের গতিপথ। ইডির তদন্তে সামনে আসা ₹৩০ লক্ষের লেনদেন নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠলেও, ওই অর্থ অপরাধের টাকা ছিল কি না, তা এখনও তদন্তাধীন।





