কোচবিহার, ২ অক্টোবরঃ পুজোর ক’দিন শহরের রাস্তায় বাড়বে মানুষের ভিড়, সঙ্গে বাড়বে গাড়ির চাপও। সেই ভিড় ও যানজট সামলাতে আগেভাগেই মাঠে নামল কোচবিহার সদর ট্রাফিক পুলিশ। দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে শহরের যান চলাচল কী ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, কোন রাস্তায় বিধিনিষেধ থাকবে, কোথা দিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হবে সব কিছু ঠিক করতে শুক্রবার বিশেষ বৈঠক করল ট্রাফিক বিভাগ। তৈরি হচ্ছে পুজোর জন্য আলাদা ‘রোড ম্যাপ’ও।
শুক্রবার কোচবিহার পুলিশ লাইনের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলার ট্রাফিক বিভাগের আধিকারিকরা। পাশাপাশি বিভিন্ন গাড়ি সংগঠনের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে যোগ দেন। পুজোর সময়ে শহরের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের যাতে কোনও বড় সমস্যার মুখে পড়তে না হয়, তা নিয়েই মূলত আলোচনা হয়।
পুজোর সময়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে মানুষের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। মণ্ডপ দর্শনে বেরোনো মানুষ, ছোট-বড় যানবাহন এবং বাইরে থেকে আসা দর্শনার্থীদের গাড়ির চাপে তৈরি হয় যানজট। সেই পরিস্থিতি এড়াতেই এবার আগে থেকে রুট পরিকল্পনা করতে চাইছে ট্রাফিক পুলিশ।
বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, পুজোর দিনগুলিতে শহরের কোন কোন রাস্তা সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হতে পারে। কোথায় গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে, কোন রাস্তায় একমুখী যান চলাচল করা হবে এবং কোন কোন বিকল্প রাস্তা দিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া সম্ভব সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হয়।
বিশেষ করে পুজোর ভিড়ের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও মণ্ডপ সংলগ্ন এলাকাগুলিতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়েও মতামত নেওয়া হয় গাড়ি সংগঠনগুলির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে। স্থানীয় রুট সম্পর্কে তাঁদের অভিজ্ঞতাকেও পরিকল্পনায় কাজে লাগাতে চাইছে পুলিশ।
বৈঠকের পর ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুজোর আগেই গোটা পরিকল্পনাকে চূড়ান্ত করা হবে। কোন রাস্তায় কখন বিধিনিষেধ থাকবে, কোথায় পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে এবং বিকল্প পথে যান চলাচল কী ভাবে পরিচালিত হবে সেগুলি নিয়ে বিস্তারিত রোড ম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে।
পুজোর আনন্দে যাতে যানজটের ভোগান্তি বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, এখন সেই লক্ষ্যেই প্রস্তুতি কোচবিহার সদর ট্রাফিক পুলিশের। পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হয়, তার উপরই নির্ভর করবে উৎসবের দিনগুলিতে শহরের যান চলাচলের স্বস্তি।





