জলপাইগুড়ি, ২ সেপ্টেম্বরঃ একদিকে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে বাঘ পুনঃপ্রবর্তন ঘিরে বন দফতরের বড় কর্মসূচি। আর সেই দিনই জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জে বুনো হাতির অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে উঠল একাধিক প্রশ্ন। শুক্রবার সকালে বৈকুণ্ঠপুর বনবিভাগের নোধাবাড়ি জঙ্গলে উদ্ধার হল একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির মৃতদেহ। তার দাঁত ও শরীরের বিভিন্ন অংশে জড়ানো ছিল নিষিদ্ধ ‘ব্লেড ওয়্যার’ বা ধারাল কাঁটাতার। প্রাথমিক ভাবে বনকর্মীদের অনুমান, ওই তারে বেআইনি ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। তার সংস্পর্শে এসেই হাতিটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথম জঙ্গলের মধ্যে হাতিটির দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন বনকর্মীরা। পরে পরিবেশপ্রেমীরাও সেখানে যান। হাতিটির দেহ ঘিরে শুরু হয় প্রাথমিক তদন্ত। বন দফতরের নজরে এসেছে, ফসল রক্ষার জন্য জঙ্গলের লাগোয়া এলাকায় কোথাও কোথাও বেআইনি ভাবে বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়া কাঁটাতার ব্যবহার করা হয়। সেই ব্যবস্থা থেকেই হাতিটির মৃত্যু হয়েছে কি না, এখন সেটিই তদন্তের অন্যতম বিষয়।
বন দফতর সূত্রে খবর, হাতিটির দেহের ময়নাতদন্ত শুক্রবারই হওয়ার কথা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা মিলবে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ এবং বিদ্যুৎ সংযোগের উৎস খতিয়ে দেখার কাজও শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে ‘ব্লেড ওয়্যার’ কী ভাবে সেখানে এল, কে বা কারা সেটি বসিয়েছিল এবং তাতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে বন দফতর। ঘটনায় কারও বেআইনি ভূমিকা সামনে এলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।
উত্তরবঙ্গে বন ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির দিনেই এই ঘটনা সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন রাজগঞ্জের বিধায়ক দিনেশ সরকার। তবে হাতিটির মৃত্যুর পিছনে ঠিক কী কারণ, তা ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।





