আলিপুরদুয়ার, ২ অক্টোবরঃ অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। উত্তরবঙ্গের বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে ফের বাঘের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। শুক্রবার, ২ অক্টোবর বিহারের বাল্মিকী টাইগার রিজার্ভ থেকে আনা একটি বাঘিনীকে বক্সার জঙ্গলে ছাড়া হল। সেই মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু একটি বাঘিনীকে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়াই নয়, আগামী দু’মাসের মধ্যে আরও তিনটি বাঘ বক্সায় আনার পরিকল্পনাও ঘোষণা করলেন তিনি। বাঘের প্রত্যাবর্তনের পাশাপাশি বক্সা ও জয়ন্তীকে ঘিরে পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়নের বার্তাও দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি দীর্ঘদিন ধরেই বনপ্রেমী ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে যুক্ত মহলের প্রত্যাশা ছিল। এ দিন সেই লক্ষ্যেই নতুন পদক্ষেপের কথা জানায় রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী দু’মাসের মধ্যে আরও তিনটি বাঘ বক্সার জঙ্গলে ছাড়া হবে। তবে বাঘের স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ, পর্যাপ্ত শিকার এবং বন্যপ্রাণীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে।
বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটনেও বক্সাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্যের। মুখ্যমন্ত্রী জানান, জয়ন্তী লাগোয়া প্রায় দু’হাজার একর জমিতে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় বনমন্ত্রীর জমি পরিদর্শনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
আলিপুরদুয়ারের মঞ্চ থেকে উন্নয়নের বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে বক্সা নামেই ব্যাঘ্র প্রকল্প ছিল, বাঘের উপস্থিতি ছিল না। তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে এলাকার মানুষ তাঁদের পাশে রয়েছেন। সেই সমর্থনের প্রতিদান উন্নয়নের মাধ্যমে দেওয়া হবে এবং সমস্ত কাজ স্বচ্ছতার সঙ্গে করা হবে।
চা-বাগান, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্ধ চা-বাগান খোলার উদ্যোগ এবং চা-শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দের কথা জানিয়ে তিনি দাবি করেন, উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে কোনও খামতি রাখা হবে না।
পুজোর পরে ১৫ নভেম্বর ফের আলিপুরদুয়ার সফরে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সে দিন জনজাতি দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক বৈঠক এবং টোটোপাড়ায় যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। বক্সায় বাঘের প্রত্যাবর্তন এবং জয়ন্তীতে পর্যটন কেন্দ্র গড়ার ঘোষণা দুই উদ্যোগের বাস্তবায়ন কতটা দ্রুত হয়, এখন সেদিকেই নজর উত্তরবঙ্গের মানুষের।





