খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২ অক্টোবরঃ ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাত কর্নাটকে। বাংলা, বিহার, হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রে ভোটার তালিকা নিয়ে যে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আসছিল কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা, এ বার সেই একই ধরনের অভিযোগ উঠল কর্নাটকে। বেলগাভিতে এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে ১৯৮ জন মুসলিম ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জানানোর অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। ঘটনাকে যোগ্য ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পিত চেষ্টা বলে দাবি করেছে কংগ্রেস। যদিও অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
পুলিশ সূত্রে খবর, বেলগাভি মার্কেট থানায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর এক ভোটার রবি পাটিল নামে ওই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতেই তাকে আটক করে পুলিশ এফআইআর দায়ের করেছে। অভিযোগ, পাটিল একাই নির্বাচন কমিশনের কাছে ফর্ম ৭ জমা দিয়ে ১৯৮ জন মুসলিম ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করেছিলেন। ওই আবেদনের নেপথ্যে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, রবি পাটিলের বিরুদ্ধে প্রতারণা, মানহানি এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। বিএলও এবং স্থানীয় ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই ধরনের আরও কয়েকটি অভিযোগ পুলিশের কাছে এসেছে বলে সূত্রের খবর।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কর্নাটকে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের অভিযোগ, পরিকল্পিত ভাবে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, একাধিক ফর্ম ৭-এ আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট ভোটারদের নাম ও এপিক নম্বর উল্লেখ করা থাকছে। ফলে নাম বাদ দেওয়ার আবেদনগুলি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি এর পিছনে কোনও সংগঠিত পরিকল্পনা রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বৃহস্পতিবার রাতে কর্নাটকের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের সামনে ধরনায় বসেন ডি কে শিবকুমার-সহ কংগ্রেসের একাধিক নেতা। তার পরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযোগগুলির তদন্তে তৎপর হয় পুলিশ।
তবে কোনও ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জমা পড়লেই যে সেই নাম তালিকা থেকে মুছে যাবে, এমন নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং নিয়ম মেনেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা নির্বাচন কর্তৃপক্ষের। এখন তদন্তে রবি পাটিলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা কতটা প্রমাণিত হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।





