হাড়োয়া, ১ অক্টোবরঃ রাতের অন্ধকারে পর পর বিস্ফোরণের শব্দ। আচমকা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরই বোমাবাজির অভিযোগ। বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়া থানার শালিপুর পঞ্চায়েতের তালবেড়িয়া এলাকায় এই ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনায় মোট আট জন বিজেপি কর্মী-সমর্থক জখম হয়েছেন বলে দাবি। তাঁদের মধ্যে পাঁচ জনকে হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও আইএসএফের মধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির অভিযোগের আঙুল আইএসএফের দিকে গেলেও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে আইএসএফ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে তালবেড়িয়া এলাকায় একটি জায়গায় কয়েক জন বিজেপি কর্মী-সমর্থক বসেছিলেন। সেই সময় আচমকা এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অভিযোগ, অন্ধকার নামার পরেই তাঁদের লক্ষ্য করে একের পর এক বোমা ছোড়া হয়। বিস্ফোরণে আট জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে পাঁচ জনের আঘাত গুরুতর বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছয় হাড়োয়া থানার পুলিশ। তল্লাশি চালিয়ে বেশ কয়েকটি তাজা বোমা এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, পরিকল্পিত ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাদের কর্মী-সমর্থকদের লক্ষ্য করে বোমা ছোড়া হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতা রাম ঘোষালও আইএসএফের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, এলাকায় আগে থেকেই বোমা ও গুলি মজুত করা হয়েছিল। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে আইএসএফ।
অন্যদিকে, স্থানীয় আইএসএফ নেতৃত্বের পাল্টা দাবি, ঘটনার সঙ্গে তাদের দলের কোনও যোগ নেই। তাদের বক্তব্য, এলাকায় অন্য কোনও বিবাদ বা গোষ্ঠীগত সংঘর্ষের জেরেও এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ফলে বোমাবাজির নেপথ্যে আসলে কারা ছিল, তা নিয়ে এখনও দুই পক্ষের বয়ানে বিস্তর ফারাক।
এদিকে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় একাধিক তাজা বোমা উদ্ধারের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে নিরাপত্তা নিয়েও। কী ভাবে ওই বোমাগুলি সেখানে এল, ঘটনায় আর কারও যোগ রয়েছে কি না সবই খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন নজর স্থানীয় বাসিন্দাদের।





