ঝাড়গ্রাম, ১ অক্টোবরঃ যোগ ব্যায়াম শেখানোর আড়ালে পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির কয়েক জন ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ। ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকের একটি বিদ্যালয়ে। অভিযুক্ত স্কুলের ক্রীড়া শিক্ষক অরূপকুমার নায়েককে বুধবার রাতে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার তাঁকে পকসো আইনের ১০ ধারায় আদালতে পেশ করা হয়েছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বেশ কিছু দিন ধরেই ওই শিক্ষকের আচরণ নিয়ে ছাত্রীরা অস্বস্তিতে ছিল। কিন্তু ভয়ে এত দিন বিষয়টি প্রকাশ্যে বলতে পারেনি তারা। সম্প্রতি কয়েক জন পড়ুয়ার অভিভাবক বিষয়টি স্কুলের প্রধান শিক্ষক অন্তর্যামী রানাকে মৌখিক ভাবে জানান বলে জানা গিয়েছে।
অভিভাবকদের আরও অভিযোগ, বিষয়টি জানানো হলেও স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে তাৎক্ষণিক কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। বরং তাঁদের চুপ করে থাকতে বলা হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই বুধবার কয়েক জন ছাত্রীর অভিভাবক স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে এর কারণ জানতে চান। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সদস্যেরাও।
এর পরেই স্কুল চত্বরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযুক্ত শিক্ষককেও স্কুলে ডেকে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চান অভিভাবকেরা। খবর পেয়ে বেলিয়াবেড়া থানার পুলিশ স্কুলে পৌঁছয়। পরে অরূপকুমার নায়েককে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপার মানব সিংলা জানিয়েছেন, স্কুলের যোগা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের ‘ব্যাড টাচ’-এর অভিযোগ সামনে এসেছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী তদন্ত করে পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানান তিনি।
অভিভাবকদের একাংশের বক্তব্য, স্কুলের মতো নিরাপদ পরিসরে পড়ুয়াদের সঙ্গে এমন অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাঁদের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
ইতিমধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষককে পকসো আইনের ১০ ধারায় আদালতে পেশ করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার পরিধি এবং আর কোনও পড়ুয়া এমন আচরণের শিকার হয়েছিল কি না সব দিকই তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও অভিভাবকদের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে।





