কোচবিহার, ৩০ সেপ্টেম্বরঃ সভাধিপতির পর এ বার কোচবিহার জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি আব্দুল জলিল আহমেদের বিরুদ্ধেও অনাস্থা প্রস্তাব পাশ হল। বুধবার জেলা পরিষদের বিশেষ তলবি সভায় তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করেন তৃণমূলের ২০ জন সদস্য। একই দিনে সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা পাশ হওয়ায় জেলা পরিষদের শীর্ষ নেতৃত্বের দুই পদই এখন কার্যত শূন্য। ফলে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, সহকারী সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে বুধবার বিশেষ তলবি সভা ডাকা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত তৃণমূল সদস্যদের একাংশ অনাস্থার পক্ষে মত দেন। এর আগে সভাধিপতির বিরুদ্ধেও অনাস্থা প্রস্তাব পাশ হয়েছিল। পর পর দুই শীর্ষ পদে অনাস্থা ঘিরে জেলা পরিষদের অন্দরের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে।
শুধু তৃণমূল নয়, জেলা পরিষদের বিজেপি সদস্যদের একাংশেরও অভিযোগ, বর্তমান বোর্ডের আমলে প্রশাসনিক কাজকর্মে গতি ছিল না। একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকার অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। যদিও কোন কোন প্রকল্প থমকে রয়েছে বা তার পিছনে নির্দিষ্ট কারণ কী, তা নিয়ে জেলা পরিষদের তরফে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
পর পর অনাস্থা প্রস্তাব পাশ হওয়ার ফলে এখন মূল প্রশ্ন, জেলা পরিষদ কী ভাবে চলবে। সভাধিপতি এবং সহকারী সভাধিপতি দুই পদই নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ায় দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজকর্মের পাশাপাশি উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এখন জেলা পরিষদে প্রশাসক বসানো হবে, নাকি নির্বাচিত সদস্যদের মধ্য থেকেই নতুন করে সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের তরফে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
রাজ্য রাজনীতিতে পরিবর্তনের পর কোচবিহারের জেলা পরিষদকে ঘিরে এমনিতেই রাজনৈতিক টানাপড়েন চলছিল। তার মধ্যেই একই দিনে দুই শীর্ষ পদে অনাস্থা পাশ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। পরবর্তী প্রশাসনিক নির্দেশ এবং জেলা পরিষদের নতুন নেতৃত্ব কী ভাবে নির্ধারিত হয়, এখন সেদিকেই নজর জেলার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।





