মেদিনীপুর, ২৯ সেপ্টেম্বরঃ ‘চা চক্র’ থেকে একের পর এক রাজনৈতিক ইস্যুতে মুখ খুললেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। মঙ্গলবার সকালে মেদিনীপুর শহরের উদয়পল্লিতে বিজেপির কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে ‘অতিবামপন্থী’ রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে তাঁর বক্তব্য, দেশের বিরুদ্ধে স্লোগান বা চক্রান্ত পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিরোধীদের আন্দোলন, ‘ইন্ডিয়া’ জোট এবং রাজ্যের স্কুলশিক্ষা নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি।
এ দিন তিন নম্বর ওয়ার্ডের উদয়পল্লিতে চা চক্রে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ করেন দিলীপ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গেই এক সময় বন্দেমাতরমের স্লোগান উঠেছে, ‘জন গণ মন’-এর সঙ্গে এই মাটির ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। তাই দেশের বিরোধিতা বা দেশের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার জন্য বাংলার মাটিকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে দাবি তাঁর।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিরোধীদের আন্দোলন নিয়েও কটাক্ষ করেন দিলীপ। তাঁর বক্তব্য, ভোটের ফল প্রকাশের পরই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে। ‘‘হারতে হারতে হারাধন হয়ে গিয়েছে বিরোধীরা, তাই এখন খড়কুটো সম্বল করে বাঁচার চেষ্টা করছে,’’ মন্তব্য করেন তিনি। যদিও জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিরোধীদের অভিযোগ এবং তা নিয়ে পাল্টা রাজনৈতিক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ‘ইন্ডিয়া’ জোট নিয়েও আক্রমণ শানান বিজেপি নেতা। তাঁর দাবি, জোটটি মূলত কাগজে-কলমেই ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এ দিনের চা চক্রে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসঙ্গও উঠে আসে। কয়েকটি সরকারি স্কুল বন্ধ হওয়া নিয়ে দিলীপের বক্তব্য, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর ঘাটতি, পরিকাঠামোর অভাব এবং পড়ুয়া কমে যাওয়ার কারণে বহু সরকারি স্কুল সমস্যায় রয়েছে। তাঁর দাবি, চলতি অর্থবর্ষে ৫০ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী স্কুলের সংখ্যা পুনর্বিন্যাস করে পড়ুয়াদের সুবিধা এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করার কথাও বলেন তিনি।
ওবিসি শংসাপত্রের ভিত্তিতে চাকরি পাওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন দিলীপ। আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁর বক্তব্যের কোনও বাস্তবায়ন হবে না বলেও দাবি করেন তিনি। মঙ্গলবার মেদিনীপুরে দিনভর একাধিক কর্মসূচি রয়েছে দিলীপের। সকাল থেকেই চা চক্র, বৃক্ষরোপণ এবং দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে তাঁর কর্মসূচি।





