দুর্গাপুর, ২৯ সেপ্টেম্বরঃ খাটে শোয়ানো কুশপুত্তলিকা। হাতে কালো পতাকা। সঙ্গে স্লোগান। পরে সেই কুশপুত্তলিকাতেই জুতোর মালা পরিয়ে প্রতীকী ‘কবর’। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য এবং মৃত্যু কামনার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার দুর্গাপুরে অভিনব প্রতিবাদে সামিল হল বিজেপি যুব মোর্চা।
এদিন সিটি সেন্টার বাসস্ট্যান্ড চত্বরে জমায়েত করেন বিজেপি যুব মোর্চার কর্মী-সমর্থকেরা। খাটে করে একটি কুশপুত্তলিকা নিয়ে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা ঘোরানো হয়। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল কালো পতাকা। স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। পরে কুশপুত্তলিকায় জুতোর মালা পরিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। এর পর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকাতেই কুশপুত্তলিকাটিকে প্রতীকী ভাবে ‘কবর’ দেওয়া হয়।
বিজেপি যুব মোর্চার অভিযোগ, রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা বিরোধিতা থাকতেই পারে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যু কামনা করার মতো মন্তব্য কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। হুমায়ুন কবীরকে তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে বলেও দাবি তোলেন বিক্ষোভকারীরা।
যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক শুভম সিং বলেন, ‘‘রাজনীতিতে মতভেদ থাকবে, তর্ক-বিতর্ক হবে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যু কামনা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি তাঁকে প্রকাশ্যে ক্ষমাও চাইতে হবে।’’
তাঁর আরও দাবি, ক্ষমা না চাইলে আগামী দিনে আন্দোলনের পরিধি বাড়ানো হবে। মঙ্গলবারের কর্মসূচিকে তারই প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখছে বিজেপি যুব মোর্চা।
ঘটনাকে ঘিরে দুর্গাপুরের রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক নেতাদের মন্তব্য ঘিরে পাল্টা প্রতিবাদ, বিক্ষোভ এবং কুশপুত্তলিকা দাহের ঘটনা নতুন নয়। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল খাটে করে কুশপুত্তলিকা নিয়ে মিছিল এবং প্রতীকী কবর দেওয়ার কর্মসূচি।
যদিও হুমায়ুন কবীরের তরফে এই বিক্ষোভের বিষয়ে কী বক্তব্য, তা এ দিন জানা যায়নি। ফলে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই রাজনৈতিক উত্তেজনা কতটা বাড়ে, নজর থাকবে সে দিকেই।





