কলকাতা, ২৮ সেপ্টেম্বরঃ রবিবারের দফায় দফায় সংঘর্ষের রেশ কাটেনি সোমবারও। সকাল থেকে থমথমে সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (এসআরএফটিআই) চত্বর। প্রতিষ্ঠানের বাইরে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পঞ্চসায়র থানায় সংঘর্ষের ঘটনায় পৃথক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তবে এখনও কাউকে গ্রেফতার বা আটক করা হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
ঘটনার সূত্রপাত রবিবার দুপুরে। এসআরএফটিআই-এর অডিটোরিয়ামে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত সমিতির একটি অনুষ্ঠান ছিল। সংগঠনটির দাবি, নিয়ম মেনেই ওই অনুষ্ঠানের জন্য অডিটোরিয়াম নেওয়া হয়েছিল। অন্য দিকে, পড়ুয়াদের একাংশের অভিযোগ, তাঁদের না জানিয়েই ক্যাম্পাসে বাইরের একটি সংগঠনের অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রশ্ন তুলেই তাঁরা অনুষ্ঠানস্থলে যান। সেখান থেকেই প্রথমে বচসা এবং পরে হাতাহাতি শুরু হয় বলে বিভিন্ন পক্ষের দাবি।
এর পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলে। পড়ুয়াদের অভিযোগ, তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং মারধর করা হয়েছে। অন্য দিকে, অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের সদস্যদের দাবি, তাঁদের অনুষ্ঠান ভন্ডুল করা এবং সদস্যদের উপর হামলা করা হয়েছে। ফলে ঠিক কী ভাবে সংঘর্ষের সূত্রপাত, তা নিয়েই রয়েছে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য। অভিযোগগুলির সবটাই এখনও স্বাধীন ভাবে প্রমাণিত হয়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে বিশাল পুলিশবাহিনী পৌঁছয়। পুলিশের উপস্থিতিতেও কয়েক দফায় উত্তেজনা ছড়ায়। ক্যাম্পাসের গেট ঘিরে বিক্ষোভ, পাল্টা স্লোগান এবং হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়। আহতদের কয়েক জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, বেশ কয়েক জন পড়ুয়া এবং শিক্ষকও আহত হয়েছেন।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। তবে সোমবারও ক্যাম্পাসের বাইরে নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়েছে। পঞ্চসায়র থানায় অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের তরফে, পড়ুয়াদের একাংশের তরফে এবং পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এখন পুলিশের সামনে মূল প্রশ্ন কী ভাবে বচসা হাতাহাতিতে গড়াল, কারা সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন এবং হামলার অভিযোগের সত্যতা কতটা। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত এগোচ্ছে। এসআরএফটিআই-এর মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে এমন উত্তেজনার ঘটনায় তাই এখন নজর তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপে।





