কলকাতা, ২৭ সেপ্টেম্বরঃ রাতের অন্ধকারে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হল এক কংগ্রেস কর্মীর। মুর্শিদাবাদের রানিনগরের এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। মৃতের পরিবারের অভিযোগের তির এনসিপিআইয়ের দিকে। যদিও সেই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন এনসিপিআই নেতা তথা সাংসদ আবু তাহের খান। তাঁর দাবি, ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
মৃতের নাম জিয়ারুল রহমান ওরফে পিন্টু। হুড়শি পঞ্চায়েতের গোপালপুরের বাসিন্দা জিয়ারুল দীর্ঘদিন কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। শুক্রবার রাতে দেবাইপুর-শিসাপাড়া রাস্তার বিহারীকাটা এলাকায় তাঁকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, দেবাইপুর থেকে বাড়ি ফেরার পথে কয়েক জন তাঁর পথ আটকান। পরে তাঁকে মাঠের মধ্যে নিয়ে গিয়ে মারধর করে ফেলে রেখে যাওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ইসলামপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই শনিবার গভীর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর মৃতের পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হয়, হামলাকারীদের মধ্যে এনসিপিআইয়ের লোকজন ছিলেন। রানিনগরের কংগ্রেস বিধায়ক জুলফিকার আলি দাবি করেন, ১৫-২০ জনের একটি দল জিয়ারুলকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করেছিল। মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন বিধায়ক এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
তবে ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে কি না, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। স্থানীয় একটি অংশের দাবি, কয়েক মাস আগে জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে জিয়ারুলের সঙ্গে এনসিপিআই কর্মী দিলওয়ার হোসেনের বচসা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছিল। সেই পুরনো বিবাদের জেরেই হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁদের অনুমান।
অন্যদিকে, এনসিপিআই নেতা আবু তাহের খান অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে পারিবারিক বিবাদ বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এনসিপিআইকে জড়িয়ে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। ফলে জিয়ারুলের মৃত্যুর পিছনে ঠিক কী ঘটেছিল পুরনো বিবাদ, না কি রাজনৈতিক সংঘাত তার উত্তর এখন পুলিশের তদন্তেই।





