নয়াদিল্লী, ২৫ সেপ্টেম্বরঃ বিধানসভায় পাশ করা ‘গুন্ডাদমন’ বিল ঘিরে বড় আইনি ধাক্কা খেল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের পাঠানো ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’-এ সম্মতি না দিয়ে তা পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল আপত্তির জায়গা মাদক সংক্রান্ত অপরাধ এবং সেই ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত।
গত ২৯ জুন বিধানসভায় পাশ হয়েছিল বিলটি। প্রস্তাবিত আইনে প্রশাসন কোনও ব্যক্তিকে জননিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক বলে মনে করলে, ভবিষ্যতে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ ঠেকাতে তাঁকে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত প্রতিরোধমূলক হেফাজতে রাখার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। নির্দিষ্ট এলাকা, জেলা বা একাধিক জেলায় তাঁর প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা যেতে পারে।
বিলের আওতায় ‘গুন্ডা’ বা ‘সমাজবিরোধী কার্যকলাপ’-এর পরিধিও বিস্তৃত করা হয়েছিল। তোলাবাজি, সিন্ডিকেট, জোর করে জমি বা বাড়ি দখল, বেআইনি বালি তোলা, অবৈধ খনি কারবারের মতো কার্যকলাপকে এর আওতায় আনার প্রস্তাব ছিল। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির নির্ধারিত অঙ্কের দ্বিগুণ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছিল।
কিন্তু রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো বিলে মাদক সংক্রান্ত অপরাধকে ‘গুন্ডা’-র সংজ্ঞার মধ্যে রাখার বিষয়টি কেন্দ্রের নজরে আসে। কেন্দ্রের বক্তব্য, NDPS Act, 1985-এর অধীনে মাদক সংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই PITNDPS Act, 1988-এ প্রতিরোধমূলক আটকের নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে রাজ্যের প্রস্তাবিত বিধান একই বিষয়ে পৃথক বা সমান্তরাল আটক ব্যবস্থার জন্ম দিতে পারে এবং সংবিধানের ২৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনি সংঘাতের প্রশ্ন উঠতে পারে। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট অংশ বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
তবে এখানেই শেষ নয়। রাষ্ট্রপতির ফেরত পাঠানো মানেই বিলটির ভবিষ্যৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। প্রয়োজনীয় সংশোধন করে বিলটি ফের বিধানসভায় পেশ করতে পারবে রাজ্য সরকার। সংশোধনের পর ফের রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানোর পথও খোলা থাকছে।
ফলে ‘গুন্ডাদমন’ বিল এখন নতুন করে আইনি পরীক্ষার মুখে। বিধানসভায় পাশ হওয়ার পরও চূড়ান্ত আইনে পরিণত হওয়ার পথে কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যের প্রশ্নটিই আপাতত সবচেয়ে বড় বাধা।





