নিউ দিল্লি, ২৫ সেপ্টেম্বরঃ ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। সরকার তৈরি হয়েছে। এবার নজর মাটিতে নতুন সরকারের প্রভাব সমাজের কোন স্তরে কতটা পৌঁছেছে? কোথায় এখনও ঘাটতি? আর কোন অংশের মানুষের সঙ্গে আরও নিবিড় যোগাযোগ প্রয়োজন? বৃহস্পতিবার দিল্লির অশোক রোডে সংঘ ও বঙ্গ বিজেপির প্রথম বড় সমন্বয় বৈঠকে বাংলার সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে এমনই একাধিক প্রশ্ন ঘিরে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
বৈঠকের আলোচনায় উঠে এসেছে যুবসমাজ ও কর্মসংস্থান, মহিলাদের নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ, তফসিলি জাতি-উপজাতি এবং আদিবাসী সমাজ, পিছিয়ে থাকা এলাকার উন্নয়ন-সহ সমাজের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগের বিষয়। সূত্রের খবর, সরকারের প্রকল্প ও সিদ্ধান্তের সুফল বাস্তবে মানুষের কাছে কতটা পৌঁছচ্ছে, সেই ‘গ্রাউন্ড রিপোর্ট’-এর উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে যুবসমাজকে ঘিরে উদ্বেগ ও প্রত্যাশার জায়গাগুলি চিহ্নিত করার কথা বলা হয়েছে। সাম্প্রতিক আরএসএস-বিজেপি পর্যালোচনা বৈঠক সম্পর্কিত প্রতিবেদনে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান, শিক্ষায় সংস্কার এবং সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে।
তবে শুধু সরকারের কাজের পর্যালোচনা নয়, সংগঠন ও প্রশাসনের মধ্যে যোগাযোগের প্রশ্নটিও বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে সূত্রের খবর। স্থানীয় স্তরে মানুষের সমস্যা, প্রত্যাশা বা ক্ষোভের খবর সংগঠনের মাধ্যমে সরকারের কাছে পৌঁছবে আবার সরকারের প্রকল্প ও সিদ্ধান্তের সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছল কি না, তারও খোঁজ রাখবে সংগঠন। অর্থাৎ, এক দিকে প্রশাসনের কাজ, অন্য দিকে সাংগঠনিক ‘ফিডব্যাক’ দুইয়ের মধ্যে একটি নিয়মিত যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরির উপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, বিজেপির সর্বভারতীয় সংগঠন সাধারণ সম্পাদক বি এল সন্তোষ এবং সংঘের সহ-সরকার্যবাহ অরুণ কুমার-সহ শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।
রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের কয়েক মাসের মধ্যেই এই বৈঠক তাই শুধু সাংগঠনিক সমন্বয়ের আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকল না। সমাজের বিভিন্ন স্তরে সরকারের উপস্থিতি, মানুষের প্রত্যাশা এবং নিচুতলার সংগঠনের সঙ্গে প্রশাসনের যোগাযোগ এই তিনটি বিষয়ই এখন বঙ্গ বিজেপি-সংঘ সমন্বয়ের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হয়ে উঠেছে।





