কলকাতা, ২৩ সেপ্টেম্বরঃ আদালত চত্বর। সামনে পুলিশ। আর সেখানেই আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার অভিযোগ। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ারও অভিযোগ উঠেছে। বারুইপুর আদালতের এই ঘটনায় এবার কড়া অবস্থান কলকাতা হাই কোর্টের। ঘটনার বিস্তারিত জানতে বারুইপুর পুলিশ জেলার এসপি এবং জেলা জজের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজন হলে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা গ্রহণ করা হতে পারে বলেও জানিয়েছে আদালত।
ঘটনার সূত্রপাত ভাঙড় কলেজকে কেন্দ্র করে। বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসুর উপস্থিতিকে ঘিরে গত সোমবার থেকেই উত্তপ্ত ছিল এলাকা। কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতিকে ঢুকতে বাধা এবং এবিভিপির ছাত্রীদের উদ্দেশে কুরুচিকর মন্তব্য ও অশালীন অঙ্গভঙ্গির অভিযোগে ভাঙড় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে চার পড়ুয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মঙ্গলবার ধৃতদের বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। শুনানিতে এবিভিপির অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার হওয়া দুই এসএফআই ছাত্রের জামিন মঞ্জুর হয়। অন্য দুই অভিযুক্তকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়। ধৃতদের হয়ে সওয়াল করতে আদালতে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিযোগ, জামিনের খবর আদালত চত্বরে ছড়িয়ে পড়তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এবিভিপির ছাত্র-ছাত্রীরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সায়নকে লক্ষ্য করে স্লোগানও ওঠে। এর মধ্যেই তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয় এবং হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে বারুইপুর থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন।
ঘটনার পর সায়নের অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই আদালত চত্বরে আইনজীবীর উপর এ ভাবে হামলা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।
বুধবার আইনজীবীদের একাংশ ঘটনার কথা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের নজরে আনেন। আদালত বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে বারুইপুরের পুলিশ সুপার এবং জেলা জজের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, আদালত চত্বরে শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এখন নজর সেই রিপোর্টেই।





