শিলিগুড়ি, ২৩ সেপ্টেম্বরঃ সামান্য একটি কথার ভুল বোঝাবুঝি। তার পরিণতি যে এমন মর্মান্তিক হতে পারে, তা ভাবেননি কেউই। অভিযোগ, মদ্যপ অবস্থায় নিজের ১৪ বছরের মেয়েকে বেধড়ক মারধর করেছিলেন বাবা। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় কিশোরীকে। পরে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শিলিগুড়ির খড়িবাড়ি এলাকায়। মৃতার মা প্রমীলা কুজুরের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত বাবা সায়ন কুজুরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, খড়িবাড়ির বুড়াগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের ভাটাগছ এলাকায় বাড়ি ওই পরিবারের। স্থানীয় একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল সোনালি কুজুর। রবিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ বাড়ির রান্নাঘরে কাজ করছিল সে। সেই সময় গবাদি পশু আনতে মাঠে গিয়েছিলেন তার মা।
অভিযোগ, সেই সময় মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফেরেন সায়ন। রান্নাঘরে থাকা মেয়েকে কিছু বলেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই কথা সোনালি শুনতে পায়নি। তা নিয়ে বাবার সঙ্গে মেয়ের বচসা শুরু হয় বলে অভিযোগ। এরপরই মেয়ের উপর চড়াও হয়ে মারধর শুরু করেন বাবা।
কিশোরীর চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। ততক্ষণে গুরুতর জখম হয়ে অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিল সোনালি। প্রতিবেশীরাই তাকে উদ্ধার করে খড়িবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এদিকে পরিবারের তরফে প্রথমে চিকিৎসকদের কাছে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে জানানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোনালির মৃত্যু হয়। এরপর মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে আসার পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন তার মা। সৎকারের প্রস্তুতির মধ্যেই স্বামীর বিরুদ্ধে খড়িবাড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে পুলিশ। মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। সোমবার রাতে অভিযুক্ত সায়নকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে তোলা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। ১৪ বছরের কিশোরীর মৃত্যু ঘিরে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।





