মনিরুল হক, কোচবিহারঃ একদিকে উন্নয়নের খতিয়ান, অন্য দিকে প্রশাসনকে কড়া বার্তা। কোচবিহারে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে উঠে এল দুই সুরই। তৃণমূল ও সিপিআইএমকে নিশানা করার পাশাপাশি পুলিশকে অবৈধ নেশার কারবার এবং সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিলেন তিনি। নারী ও শিশুদের উপর নির্যাতনের ঘটনাতেও ‘কঠোর ব্যবস্থা’র বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আগের সরকারগুলির ভূমিকা নিয়ে সরব হন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, ৩৪ বছর সিপিআইএম এবং পরবর্তী ১৫ বছর তৃণমূল রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল। অথচ কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিউরোলজিস্ট নেই, ক্যাথ ল্যাবও নেই এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘এগুলো জেনে আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি, কী করেছে এরা।’’
এর পরেই প্রশাসনের উদ্দেশে তাঁর বার্তা আরও কড়া হয়ে ওঠে। অবৈধ কয়লা ও সুপারি পাচার বন্ধ রাখার কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই ধরনের কারবার চলতে দেওয়া হবে না। সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বেনিফিশিয়ারির কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের জেলে যেতে হবে।
নেশার বিরুদ্ধে অভিযানের ক্ষেত্রেও পুলিশকে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এলাকায় অবৈধ আফিম ও গাঁজা চাষের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর কথা বলে তিনি সেগুলি নষ্ট করার নির্দেশ দেন। মাদক সংক্রান্ত ঘটনায় এনডিপিএস আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন। তাঁর বার্তা, সীমান্তবর্তী এই এলাকাকে নেশামুক্ত করতে ধারাবাহিক অভিযান প্রয়োজন।
সাহেবগঞ্জ থানার এলাকায় এক নাবালিকার উপর নির্যাতনের অভিযোগের প্রসঙ্গও ওঠে প্রশাসনিক বৈঠকে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনায় ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিশু ও মহিলাদের উপর নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশকে দ্রুত এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
প্রশাসনিক বৈঠকের শেষে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে তাই একসঙ্গে উঠে এল রাজনৈতিক অতীতের হিসাব এবং প্রশাসনের কাছে প্রত্যাশার কথা। উন্নয়নের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা, মাদক দমন এবং সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা এই তিন ক্ষেত্রেই ‘কঠোর’ অবস্থানের বার্তা দিলেন শুভেন্দু।





