মনিরুল হক, কোচবিহারঃ মদনমোহনের মন্দিরে পুজো দিয়ে শুরু। তার পর রবীন্দ্র ভবনে প্রশাসনিক বৈঠক। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম কোচবিহার সফরে এসে উন্নয়নের একাধিক দিকের খতিয়ান নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার দুই জেলার আধিকারিক, মন্ত্রী ও বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে রাস্তা-ঘাট, জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ, সীমান্ত সুরক্ষা, বিমানবন্দর, পুরসভা থেকে শুরু করে একাধিক সরকারি প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘কোচবিহারকে সাজাব, উন্নয়ন করব।’’ জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি পুজোর আগে জেলার রাস্তা মেরামতির বিষয়েও প্রশাসনকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। পুরসভাগুলির পরিস্থিতি নিয়েও পর্যালোচনা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
সীমান্ত সুরক্ষার প্রসঙ্গও উঠে আসে বৈঠকে। বিএসএফের কাছে জমি হস্তান্তরের কথা জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, দেশকে সুরক্ষিত রাখতে হলে সীমান্তকেও নিরাপদ রাখতে হবে। তাঁর দাবি, প্রায় ২১০ একর জমি বিএসএফকে দেওয়া হচ্ছে।
কোচবিহার বিমানবন্দর নিয়েও বড় বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৮ তারিখ বিমানবন্দর সংক্রান্ত চুক্তি হওয়ার কথা জানিয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘‘আপনারা বিমানবন্দর পাচ্ছেন।’’ ফলে দীর্ঘদিন ধরে বিমান পরিষেবা নিয়ে কোচবিহারবাসীর প্রত্যাশার প্রসঙ্গও ফের সামনে এসেছে।
শুধু যোগাযোগ নয়, জেলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির উন্নয়নেও নজর দেওয়ার কথা জানান শুভেন্দু। মদনমোহন মন্দিরের উন্নয়ন এবং রাজবংশী ভাষা একাডেমির উন্নয়ন পর্ষদে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, কাজ হবে ‘‘পুরোদমে’’।
প্রশাসনিক বৈঠকে সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতির হিসাবও নেওয়া হয়েছে। আবাস যোজনা, ১০০ দিনের কাজ, অন্নপূর্ণা যোজনা, পিএম-কিষান সম্মান নিধি এবং জল জীবন মিশন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কোচবিহার জেলায় অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেয়েছেন ৫ লক্ষ ৫৮ হাজার মহিলা। প্রতি বিধানসভায় প্রায় ৭০ হাজার করে মহিলা এই সুবিধা পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
কৃষক বন্ধু প্রকল্পের ভেরিফিকেশন এবং আয়ুষ্মান ভারতের পরিষেবার কথাও উঠে আসে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কোচবিহার জেলা থেকে প্রায় দু’হাজার মানুষ আয়ুষ্মান ভারতের মাধ্যমে চিকিৎসার সুবিধা পেয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম কোচবিহার সফরের প্রশাসনিক বৈঠক তাই শুধু পর্যালোচনায় আটকে থাকল না। রাস্তা, বিমানবন্দর, সীমান্ত, মন্দির, ভাষা এবং জনকল্যাণ একাধিক খাতে উন্নয়নের বার্তা দিয়ে গেলেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, কোচবিহারকে উন্নয়নের মানচিত্রে আরও সামনে আনার লক্ষ্যেই একাধিক প্রকল্পে গতি আনতে চাইছে রাজ্য সরকার।





