কলকাতা, ২১ সেপ্টেম্বরঃ নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তে দলের পুরনো নাম ও প্রতীক ব্যবহারে আপাতত বাধা। তার মধ্যেই দলীয় তহবিল নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে স্বস্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের। তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে টাকা খরচের যে অনুমতি আগে দেওয়া হয়েছিল, সোমবার সেই নির্দেশই বহাল রাখল বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের আদালত। নির্দেশটি আপাতত ২০২৭ সালের ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত। ১৭ সেপ্টেম্বর কমিশন ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং জোড়াফুল প্রতীকের ব্যবহার ফ্রিজ করে দেয়। উপনির্বাচনের জন্য দুই গোষ্ঠীকেই পৃথক নাম ও প্রতীক দেওয়া হয়েছে। কমিশনের ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থও হয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে দলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার অধিকার কার থাকবে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে। সোমবার কলকাতা হাই কোর্টে সেই মামলারই শুনানি ছিল। রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার প্রশ্ন তোলেন, যে নামে মামলা হয়েছে, সেই ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটি বর্তমানে কোনও গোষ্ঠীই ব্যবহার করতে পারছে না। ফলে ওই মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে আদালতে যুক্তি দেন তিনি।
তবে আদালতের পর্যবেক্ষণ, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত নয়। উপনির্বাচনকে সামনে রেখে কমিশন অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নিয়েছে। ফলে দলের সাংগঠনিক পরিচয় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আগের আদালতের নির্দেশই বহাল থাকবে।
এর আগে ৯ জুলাই আদালত তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার জন্য বিশেষ অফিসার নিয়োগ করেছিল। সেই ব্যবস্থায় দৈনন্দিন ও আইনি খরচ মেটানোর জন্য অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে ইচ্ছেমতো টাকা খরচের সুযোগ ছিল না। নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে লেনদেন করার নির্দেশ ছিল আদালতের।
সোমবার সেই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাই আরও কয়েক মাসের জন্য বহাল রাখল হাই কোর্ট। ফলে এক দিকে নির্বাচনী পরিচয় নিয়ে আইনি লড়াই, অন্য দিকে দলের আর্থিক লেনদেন সচল রাখার প্রশ্ন দুই ক্ষেত্রেই আপাতত আদালত ও নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে দুই শিবির।





