শিলিগুড়ি, ২১ সেপ্টেম্বরঃ কাগজে-কলমে আবেদন পাশ। সরকারি ব্যবস্থায় দেখাচ্ছে ‘অ্যাপ্রুভড’। অথচ নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা। এই অভিযোগেই ফের প্রশাসনের দরজায় এসে দাঁড়ালেন একদল মহিলা। সোমবার শিলিগুড়ি মহকুমা শাসকের দফতরের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। তাঁদের দাবি, দ্রুত আটকে থাকা টাকা মেটানোর পাশাপাশি কেন টাকা জমা পড়ছে না, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে প্রশাসনকে।
বিক্ষোভকারী মহিলাদের অভিযোগ, অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য নিয়ম মেনেই আবেদন করেছিলেন তাঁরা। প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার পরও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখনও অনেকের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি। ফলে প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলির মধ্যে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ।
সমস্যা আরও জটিল হয়েছে ‘অ্যাপ্রুভড’ দেখানোর পরেও টাকা না মেলায়। বিক্ষোভকারীদের একাংশের দাবি, অনলাইনে তাঁদের আবেদন অনুমোদিত দেখাচ্ছে। অথচ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোনও টাকা জমা পড়েনি। সমস্যা জানতে দফতরে গেলে কখনও নতুন করে ফর্ম পূরণ করতে বলা হচ্ছে, কখনও আবার ফের এসে খোঁজ নিতে বলা হচ্ছে এমনই অভিযোগ তাঁদের।
মহিলাদের বক্তব্য, প্রত্যেক বার কাজ ফেলে সরকারি দফতরে ছুটে আসা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। অনেকেই দিনমজুরি বা অন্য কাজের সঙ্গে যুক্ত। ফলে এক বার আবেদন করার পরেও বার বার দফতরে আসতে হলে সময়ের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে।
এক বিক্ষোভকারীর কথায়, ‘‘আবেদন যদি অনুমোদনই হয়ে থাকে, তা হলে টাকা আটকে রয়েছে কেন? আমাদের বার বার দফতরে ডেকে পাঠানো হচ্ছে। কাজ ফেলে প্রতিদিন এখানে আসা সম্ভব নয়।’’
উল্লেখ্য, একই দাবিতে এর আগেও শিলিগুড়িতে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তারা। কিন্তু সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ। তাই সোমবার ফের SDO দফতরের সামনে জড়ো হন তাঁরা।
এ দিন বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দফতর চত্বরে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাঁদের আবেদন এবং নথিপত্র খতিয়ে দেখে দ্রুত টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার কথা থাকলেও টাকা না মেলায় প্রশ্ন উঠছে আবেদন প্রক্রিয়া ও অর্থপ্রদানের ব্যবস্থাপনা নিয়েও। ‘অ্যাপ্রুভড’ হওয়ার পরও কেন টাকা আটকে রয়েছে এই প্রশ্নের উত্তর এবং দ্রুত সমাধানের অপেক্ষাতেই আপাতত প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে শিলিগুড়ির বিক্ষোভকারী মহিলারা।





