কোচবিহার, ২১ সেপ্টেম্বরঃ তোর্সার জল কিছুটা কমেছে। কিন্তু জল নামার পরেই যেন নতুন আতঙ্ক। নদীর পাড়ে কোথাও মাটি সরে গিয়েছে, কোথাও তৈরি হয়েছে ভাঙনের আশঙ্কা। কোচবিহার শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে তোর্সা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকায় সোমবার সকালে পৌঁছলেন বিজেপি নেতা বিরাজ বোস। সঙ্গে ছিলেন দলের স্থানীয় নেতৃত্ব ও কর্মীরা। নদীপাড়ের পরিস্থিতি ঘুরে দেখার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
সম্প্রতি মালদহ-সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তার প্রভাব পড়ে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও। কোচবিহারের বিস্তীর্ণ এলাকায় তোর্সা-সহ একাধিক নদীর জলস্তর বেড়ে যায়। সেই সময় থেকেই নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে বাড়ছিল উদ্বেগ। এখন জলস্তর কমতে শুরু করলেও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওই এলাকায় নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
সোমবার সকালে নদীর পাড়ে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন বিরাজ। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন। নদীর ভাঙনে কোথায় কী ক্ষতি হয়েছে, বসতবাড়ি বা জমির উপর তার কতটা প্রভাব পড়েছে সেই বিষয়েও খোঁজ নেন তিনি।
এ দিন বিরাজ জানান, রবিবার রাতেই বিজেপি নেতৃত্বের তরফে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির হাতে ত্রিপল ও শুকনো খাবার তুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তাঁদের দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর প্রয়োজন রয়েছে।
তাঁর কথায়, ‘‘ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যাতে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেন, সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। যাঁরা নিজেদের এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন, তাঁদের যাতে ফের বসবাসের ব্যবস্থা করা যায়, সে বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।’’
তবে নদীর জল কমলেও ভাঙনের আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। স্থানীয়দের উদ্বেগ, নদীর পাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় ফের জল বাড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তাই শুধু ত্রাণ নয়, নদীভাঙন ঠেকাতে স্থায়ী পদক্ষেপের দাবিও উঠছে এলাকায়।
তোর্সার জল নামার সঙ্গে সঙ্গে স্বস্তি ফিরলেও নদীপাড়ের মানুষের চোখ এখন পাড়ের দিকে। ফের কখন নদী গিলে নেবে মাটি সেই আশঙ্কাই আপাতত ঘুম কেড়েছে বহু পরিবারের।





