কলকাতা, ২০ সেপ্টেম্বরঃ ভোটের ফল পেরিয়ে গিয়েছে। বদলে গিয়েছে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণও। কিন্তু তৃণমূলের অন্দরের সেই টানাপড়েন যেন এখনও থামার নাম নেই। এ বার ২০২৬-এর বিধানসভা ভোট ঘিরে আরও বিস্ফোরক দাবি করলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর ছক নাকি তৈরি হয়েছিল খোদ ক্যামাক স্ট্রিট থেকেই। শুধু মমতা নন, তৃণমূলের মোট ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা হয়েছিল বলেও দাবি তাঁর। সেই তালিকায় প্রথম নামটিই মমতার।
এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঋতব্রতর দাবি, ভোটের অনেক আগে থেকেই তৃণমূলের অন্দরে ‘নবীন বনাম প্রবীণ’-এর সংঘাত তীব্র হচ্ছিল। প্রকাশ্যে তার আঁচ খুব বেশি না মিললেও, দলের ভিতরে ক্ষমতার রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে টানাপড়েন চলছিল বলেই তাঁর বক্তব্য। তাঁর ইঙ্গিত, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের তরফে এমন একটি পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল মমতা-সহ ১৪ জন প্রার্থীকে নির্বাচনে হারিয়ে দেওয়া।
কী ভাবে? ঋতব্রতর অভিযোগ, ওই প্রার্থীদের নির্বাচনী এলাকায় দলের এজেন্টদের বসতে না দেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ কর্মীদের নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, গোটা তালিকাই তাঁর হাতে রয়েছে এবং এ বিষয়ে ‘যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ’ও রয়েছে। প্রয়োজনে আদালতে সেই প্রমাণ পেশ করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এই অভিযোগের সঙ্গে ভোট-পরবর্তী একটি ঘটনাকে মিলিয়ে দেখার প্রশ্নও উঠছে। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় এবং সেখানে দলীয় এজেন্টদের ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে ওই ঘটনাগুলির সঙ্গে ঋতব্রতর তোলা অভিযোগের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা প্রমাণিত নয়।
তৃণমূলের অন্দরের সংঘাত অবশ্য নতুন নয়। ভোটের পরেই দলীয় নেতৃত্ব এবং বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে দুই শিবিরের প্রকাশ্য বিরোধ সামনে আসে। এমনকি ১৪ বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ ঘিরে তদন্তও শুরু হয়েছিল।
ফলে ঋতব্রতর নতুন অভিযোগে সেই পুরনো প্রশ্নই আরও জোরালো ভোটের লড়াই কি শুধু ব্যালটের বাক্সে হয়েছিল, নাকি দলের অন্দরেও চলেছিল অন্য এক সমান্তরাল যুদ্ধ?





